Showing posts with label খোন্দকার রোকনুজ্জামান রবার্ট. Show all posts
Showing posts with label খোন্দকার রোকনুজ্জামান রবার্ট. Show all posts

Tuesday, 24 April 2012

না ভোলার কাব্য ♥♪♥

নূরুন্ নাহার

(মুক্তিযোদ্ধা খোন্দকার রোকনুজ্জামান রবার্ট স্মরণে)

তোমার ওপারে যাওয়ার টিকিট-
বুকিং দেওয়া হয়েছিল শুনেছিলাম।
কখন যেন চলে যাও-
ভয়ে-ভয়ে তাই দিন গুনছিলাম।
ভবিষ্যত ভাবুকের মত ভাবছিলাম-
তুমি হয়তো চলে যাবে, বসন্তে অথবা বৈশাখে।
টিকিটের সিরিয়াল কবে পাবে-
দিন-ক্ষণ কিছুই জানা ছিলনা;
তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও শেষ দেখা হলোনা!
তুমি যেদিন চলে গেলে-
সেদিন মাঝ রাতেই কোকিল ডেকেছিল;
ভার কণ্ঠে তোমার ওপারে যাওয়ার কথা গোপনে বলেছিলো।
সবাই আজ তোমার কথা-
জনে-জনে কানে-কানে বলছে,
তোমার আত্মার চার পাশ ঘিরে-
ময়ূরেরা পেখম মেলে নাচছে
প্রজাপতিরা পরীর মত পাখা দুলিয়ে হাসছে।
তোমাকে নিয়ে আমাদের কত কথার মিটিং চলে
থানা রোডে পাবলিক লাইব্রেরির বিশ্বস্ত টেবিলে।
তোমার কবিতার কথা-
‘স্বপ্নের সিথান’ কাব্য যেন সংস্কৃতির উঠোনে অমূল্য রতন।
আমরা তোমাকে একবারও ভুলিনি।
তোমাকে ভোলেনি গাছের পাতারা, গ্রীস্মের সিঁদুর রাঙা কৃষ্ণচূড়ারা
ঘাস ভেজা শিশিরেরা-
পাঁচ গাঁয়ের এঁকে বেঁকে যাওয়া মেঠো পথেরা।
সাঁঝ রাতে জ্বলে ওঠা বাঁশ বনে জোনাকিরা আলোরা
রংধনুর সাত রংআ আভারা-
তোমাকে ভোলেনি-
রক্তে ধোয়া এই বাংলার নাগরিকেরা।
তুমিতো এই মানচিত্রের বরেণ্য সংস্কৃতিবান মানবিক মুক্তিযোদ্ধা।
তোমাকেতো ভোলা যায়না-
হয়তোবা ভোলা যাবেনা কোনদিন,
তাইতো তোমার কাছে আমাদের
একগুচ্ছ শাপলার হাসির মত
হৃদয় জোড়া নাগরিক ঋণ।

প্রকাশ সূত্র : খোন্দকার রোকনুজ্জামান রবার্ট
স্মরণ
শৈলকুপা নাগরিক কমিটি। শৈলকুপা, ঝিনাইদহ।
১০ই জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯, ২৪ মে ২০১২



Nurun Nahar, নূরুন নাহার

Sunday, 25 March 2012

একজন আপনি

                                - শফিকুল ইসলাম বাহার
একজন আপনি- আমার ‘রবার্ট কাকা’।
এই আপনিই তো আবার অনেকের ‘তুমি’ ছিলেন।
আপনি ছিলেন আমার ডাক্তার কাকভ করিম কাকার বন্ধু। যেন সিন্ধুর চেয়েও বড় ছিল আপনার মন। তাইতো আমার মত অনেকেরই আপনি প্রিয়-বন্ধু হয়ে ছিলেন। আপনি ছিলেন আমার মত অনেকেরই অসম-বয়সের সমমনা বন্ধু।
আজ এক ঝট্কায় কত কথাই না মনে পড়ছে। মনে পড়ছে, আপনার মধুর সঙ্গ পাওয়ার লোভে ঢাকা থেকে শৈলকুপা যাবার জন্যে মনটা কেমন আকুল হত! হাজী-রাস্তার মোড়ে আজাদ ভাইয়ের ওষুধের দোকান - সেখানে বসে আমাদের কত বিকেল আপনি মাতিয়ে দিতেন, কত বিকেল ছুঁয়ে যেত সন্ধ্যেকে!
সর্ম্পকের মাত্রাকে ভুলে গিয়ে ছেলেমানুষির মতই উত্তাল হতেন আপনি। সেই ছোটবেলায় একবার মঞ্চে আপনার অভিনয় দেখেছিলাম- আজো তার ভালোলাগা কী গভীর লেগে আছে আমার মত অনেকেরই মনে আর কানে!
রবার্ট কাকা, আপনাকে জড়িয়ে আজ আমার ক’জন প্রিয়-মানুষের মুখ মনের উঠোনে বার বার হেসে উঠছে! পলাশ, জুয়েল, রফিক, দিরাজ- আপনার কাছে ওরাও ছিলো আপনার-শৈলকুপার মতই খুব প্রিয়! কতবার শাহী মসজিদে ঈদের নামাজ শেষ করে আমি, পলাশ আর জুয়েল ঈদের সকালের প্রথম-খাওয়াটা আপনার বাড়িতেই খেয়েছি! কী করে ভুলি –আপনার সেই আন্তরিক আপ্যায়নের মধুময় স্মৃতি? ভোলা যায় না, তাই ভুলতে পারি নি! আজ ভাবছি আর কষ্ট পাচ্ছি! একবার আপনার বাড়িতে আমি আর দিরাজ গিয়েছিলাম আপনাকে দেখতে, সঙ্গে ছিল আপনার জন্যে কিছু উপহার। দিরাজের কাছে আপনি সেই উপহারের কথা ব’লে খুব নাকি কেঁদেছিলেন! বলেছিলেন, “জানো তোমাদের ক’জনের জন্যে খুব বাঁচতে ইচেছ করে।“বুকে কষ্টের বোবা-কান্না আর চোখে আবেগের জল নিয়ে আপনার-বাহার আজ বলছে, “রবার্ট কাকা, আপনি তো বেঁচেই আছেন। আপনার-বাহার,পলাশ,জুয়েল,রফিক,দিরাজ- ওরা কখনো আপনাকে ভুলবে না।আপনি আছেন আমাদের ভালোলাগায়, আপনি থাকবেন আমাদের ভালোবাসায়। আপনি আছেন এ মনের মুগ্ধতায়, আপনি থাকবেন আপনাকে না-পাওয়ার আকুলতায়!
রবার্ট কাকা, অনেকেই হয়তো জানে না, আজকে জানাই। আমি,পলাশ, দিরাজ,জুয়েল আপনার মনোকষ্ট ,আপনার অর্থকষ্ট নিয়ে খুব ভাবতাম। একবার আমি আর পলাশ আপনার ঢাকায়-থাকা ছেলের খোঁজে ব্যস্ত হলাম। মনে আছে, একরাতে ঢাকা বেতারের গেটের সামনে বসে আপনার ছেলেকে খুব বুঝিয়েছিলাম, ছেলে বাবাকে দেখবে-এটাই তো স্বাভাবিক।
তারপর কত না সময় পেরিয়ে গেছে! আপনি তখন বেশ অসুস্থ। আমি আর দিরাজ গেছি আপনাকে দেখতে। আপনার সদ্যÑপ্রকাশিত কবিতার বইটা এগিয়ে দিয়ে বললেন,“বাহার, আমার প্রথম কবিতাটা তুমি একটু পড়ে শোনাও। তোমার আবৃত্তি আমার খুব ভালো লাগে।“আমি কোনোরকম আপত্তি ছাড়াই পড়ে শুনিয়েছিলাম।এমনই অনেক স্মৃতি আজ মনের ভিতর উথাল-পাথাল করে ঢেউ তুলছে।
আজ আপনি নেই ,কিন্তু কী ভীষণ আছেন আপনি! আজ এই যে আমার এতো বলা ,সব তো আপনার জন্যে, যারা আপনার সান্নিধ্য-ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত ছিলো তাদের জন্যে।
এই তো হয়, হয়তো এটাই স্বাভাবিক, দূরে গেলে কাছের মানুষটিকে খুব বেশি ক’রে মনে  পড়ে। কবিতা লেখা আর ছবি আঁকা- দুই বাতিকই ছিল আপনার।
আপনার সবসময়ের বাইরের পোশাক ইস্ত্রি-করা সাদা-পাজামা আর পাঞ্জাবি আমাদের নজর কাড়তো। দেখা হলেই মুচ্কি হাসি আর  কুশল বিনিময়- আজ সবই আমাদের সঞ্চয়ী-হিসাবে জমা হয়ে আছে!
 আপনি আর ফিরে আসবেন না ব’লে সেই যে চলে গেলেন, তার ক’দিন পর আপনারই এক øেহধন্য তপন বাগচীর ফোন আমার ভেতর-মনটা কাঁপিয়ে দিলো, “বাহার ভাই, রবার্ট কাকার জন্য একটা লেখা দেবেন। ঠিক তারপরই এলো আপনার-জুয়েলের ফোন, “বাহার ভাই, রবার্ট কাকাকে নিয়ে একটা স্মরণিকা বের হবে, আপনি কিন্তু অবশ্যই একটা লেখা দেবেন।”
লেখা তো দিলাম, যে-লেখার সাক্ষী হিসেবে আপনাকে পেলাম না, যে-লেখার সাক্ষী হয়ে রইলাম আপনি বাদে আমরা সবাই।এ-লেখা আপনাকে সামনে বসিয়ে, আপনাকে খুব শোনাতে ইচ্ছে করছে।
রবার্ট কাকা, মনের মানুষ নাকি মনের সব কথা শুনতে পায়, তাহলে নিশ্চয়ই আপনিও শুনতে পাচ্ছেন আপনার-বাহারের কথা।।


Jewel Hasan advised that Robert kaka passed away on 2012 Feb 07.

ঢাকা,  Received 2012 Apr 22 via Tapashi Munir's email. Thanks Jewel Hasan for making this email readable on 2012 May 23.




Sunday, 26 February 2012

রবার্ট কাকুর সাথে এক টুকরো স্বর্ণস্মৃতি


ডঃ এ,টি,এম, শরিফুল ইসলাম (স্বপন)

সন তারিখ ঠিক মনে নেই, সম্ভবতঃ ৯/১০ বছর আগেকার কথা। প্রবাস থেকে শৈলকুপা গ্যাছি সপ্তাহখানেকের জন্য। শৈলকুপা বাজারের কোন এক দোকানে রবার্ট কাকুর সাথে দেখা?
একসঙ্গে অনেকগুলো প্রশ্নঃ  
স্বপন, কেমন আছো?
কবে আসলে?
কদ্দিন পর আসলে?
আমাকে চিনতে পারছ?
সালাম বিনিময়ের পর উনি কাছে ডাকলেন, সস্নেহে পাশে বসালেন।

আকস্মিকভাবে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কি কোন কলম বা পেন্সিল আছে?
আমি বললাম, কাকু পেন্সিল নেই তবে কলম আছে।
বন্ধু বান্ধবদেরকে উপহার দেবার জন্য আমার ঝোলায় বেশ কয়টি জাপানী গোল্ডেন নিব কলম ছিল। একটি কলম কাকুর হাতে দিয়ে উনার আগের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবার প্রচেষ্টা করলাম।

কিছু বুঝে উঠার আগেই হঠাৎ করে ঐ দোকানেরই একটি খাতা থেকে কাগজ ছিঁড়ে আমার ছবি আঁকা শুরু করলেন। বললাম, আমি তো কোন সেলিব্রিটি বা বিখ্যাত কেউ নই; আমার ছবি কেন আঁকছেন কাকু! কাকু বললেন, তুমি কে, কতটুকু- ওসব তুমি বুঝবে না; ওগুলো আমরা বুঝবো।

মিনিট সাতেক পর আমার পোট্ট্রেট আর কলমটা ফেরত দিয়ে বললেন, তোমার ছবি তোমাকেই প্রেজেন্ট করলাম; দেখোতো নিজেকে চিনতে পারো কিনা!

আমিও কাকুকে দুটো কলম প্রেজেন্ট করতে চাইলাম।
জানতে চাইলেন, দুটো কেন?
একটিঃ আপনার ছবি আঁকার ইচ্ছেতে আমাকে মডেল হিসেবে নির্বাচন করার জন্য;
আর দ্বিতীয়টি হোল শুধুমাত্র আপনাকে, অর্থাৎ আপনার মতো একজন অকৃত্রিম বিস্ময়কর চিত্রকরকে যাকে আমি, আমরা, বা শৈলকুপাবাসীরা এখনো আবিস্কার করতে পারিনি।
চোখে চোখ রেখে এক অব্যক্ত পরিভাষায় আমার দেয়া সামান্য উপহার দুটো কলম কাকু গ্রহণ করলেন। মনে হল, সুস্পষ্ট কার্যকরণ না জেনে উনি সহজে কারুর দেয়া কোন উপহার গ্রহণ করতে মোটেই অভ্যস্ত নন।

ইনিই হলেন,
আমার রবার্ট কাকু,
আমাদের রবার্ট কাকু,
আমাদের পূর্বসুরীদের রবার্ট ভাই
শৈলকুপার এক অনন্যসাধারণ প্রকৃতিজাত প্রতিভা;
যিনি সবার অজ্ঞাতে, নীরব অভিমানে,
আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অবিভাবক, ভরসার একমাত্র ভরকেন্দ্র,
সুমহান স্রস্টার রাহে চলে গেলেন।

১০ই মে, ২০১২
..........................................................................................................
সুন্দর সমালোচনার প্রত্যাশায়ঃ
ডঃ এ,টি,এম, শরিফুল ইসলাম
(এমবিবিএস, পিএইচডি)
ইমেইলঃ drsharif_1@yahoo.com
মোবাইলঃ ০০৮১-৮০-৩৩৭৪-৬৩৪১

Jewel Hasan advised that Robert kaka passed away on 2012 Feb 07.