Thursday, 15 August 2013

সুকান্ত ভট্টাচার্য

রিয়া দাশগুপ্তা :: Ria Dasgupta
আজ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য-এর জন্মদিন (সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৫ই আগস্ট, ১৯২৬ - ১৩ই মে, ১৯৪৭) বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।)

আজ যদি তিনি আমাদের মাঝে জীবিত থাকতেন তবে তাঁর বয়স হতো অনেক, কিন্তু তিনি যে প্রৌঢ়ত্বের কবি নন। আমরা মনে করি কবি তিনি আঠারোর।অবাধ্য, স্পর্দ্ধিত, দুর্যোগ প্রতিপালিত আঠারোর দীপ্ত জয় ঘোষণা তিনি নিজেই করে গেছেন তাঁর কবিতায়। আঠারো তিনি পার হয়েছিলেন, মারা গেছেন একুশে, কিন্তু আঠারো অক্ষয় হয়ে আছে তাঁর বক্তব্যে, ভাষায়, ছন্দস্পন্দে, উপমায়। তারুণ্যের মধ্যে গুণ আছে, কিন্তু ঋণও আছে এক প্রকারের। তারুণ্য চপল হতে জানে, সে হতে পারে বুদ্ধিতে অপরিণত, আবেগে অশিক্ষিত। কিন্তু সুকান্তের তারুণ্যে গুণ আছে, ঋণ নেই। তাঁর মধ্যে তারুণ্যের উদ্দীপনা ও উত্তেজনা আছে, কিন্তু উদ্দীপনা ও উত্তেজনাকে তিনি কাব্যের শৃঙ্খলার ভেতর রেখেছেন, যেমন রেখেছিলেন নজরুল ইসলাম, আরো অনেক বেশি সময় নিয়ে, আরো অনেক অধিক সংখ্যক কবিতায়।

রবীন্দ্রোত্তর বাংলা সাহিত্যের একটি অবিস্মরনীয় নাম সুকান্ত ভট্টাচার্য। দাদামশাই সতীশচন্দ্র ভট্টাচার্যের ৮২ নং মহিম হালদার স্ট্রিটের বাড়ির দোতলায় একটি ছোট্ট ঘরে জন্মগ্রহন করেন সুকান্ত, ১৯২৬ সালের ১৫ই আগস্ট (বাংলা ১৩৩৩ সালের ৩০ শ্রাবণ), পিতা নিবারণ ভট্টাচার্যের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী সুনীতি দেবীর দ্বিতীয় পুত্র তিনি। জেঠতুতো দিদি রাণীদি নাম রাখের সুকান্ত, ‘রমলা’ খ্যাত সাহিত্যিক মনীন্দ্রলাল বসুর গল্প ‘সুকান্ত’-এর নামে। বাগবাজারের নিবেদিতা লেনের বাড়ির একান্নবর্তী পরিবারে কাটে তাঁর ছেলেবেলা। এরপর সেই বাড়ি ছেড়ে আসা হয় বেলেঘাটার ৩৮ নং হরমোহন ঘোষ লেনে। -

সুকান্ত তাঁর সংগ্রামী চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটিয়েছিলেন তাঁর অবিস্মরনীয় সাহিত্য-সৃষ্টির মাধ্যমে। দেশের মানুষকে বিদেশী শাসনের বিরূদ্ধে উৎসাহিত করেছিলেন তাঁর লেখনীর দ্বারা। বিদ্রোহী কবি সুকান্ত গেয়েছিলেন জীবনের জয়গান। গোলাম কুদ্দুস সম্পাদিত ‘একসূত্রে’সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল সুকান্তের ‘জনযুদ্ধের গান’, বাংলা ১৩৫১ সালের মন্বন্তর-এর ফলশ্রুতি হল ‘আকাল’নামক কবিতা সংকলন। সাথে সাথে তাঁর রাজনৈতিক কর্মীজীবনে তিনি সারা বাংলার কিশোরদের নিয়ে তৈরি করেছিলেন ‘কিশোর বাহিনী’।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের কবিতায় আমরা যে ভবিষ্যৎ কবির সন্ধান পাই, তাই মূর্ত হয় সুকান্তের মাধ্যমে -
“এসো কবি অখ্যাতজনের
নির্বাক মনের।
মর্মের বেদনা যত করিয়ো উদ্ধার”।

বিশ্বকবির এই দায়িত্ব পালনে ব্রতী সুকান্ত লিখলেন-
“যে শিশু ভূমিষ্ট হল আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুমঃ
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,
নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্মমাত্র সুতীব্র চিৎকারে”

অথবা

“এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি-
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার”

সুকান্তের সমস্ত জীবনটাই ছিল কবিতার সাথে একাত্ম। তাঁর আগুন-ঝরানো কলমে ফুটে ওঠে বিদ্রোহের গান-
“আমার দিন পঞ্জিকায় আসন্ন হোক
বিস্ফোরণের চরম, পবিত্র তিথি”
তাঁর বিদ্রোহ সকল মানুষের জন্য, জীবনের জন্য –
“হে সূর্য।
তুমি আমাদের স্যাঁতসেতে ভিজে ঘরে
উত্তাপ আর আলো দিও,
আর উত্তাপ দিও
রাস্তার ধারের ঐ উলঙ্গ ছেলেটাকে”

জনগণের কবি সুকান্তের সমাজ-সচেতনতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও সাহসী কলমে তাঁর শক্তির প্রকাশের সাথে যদি যুক্ত হত তাঁর বয়সের পূর্ণতা ও অভিজ্ঞতা, তাহলে বাংলা সাহিত্য জগৎ বৃহৎ ক্ষেত্রে পূর্ণতা লাভ করতে পারতো। তা সত্ত্বেও সুকান্ত তাঁর অপরিণত যৌবনেই এমন কবিতা লিখে গেছেন যা সুপরিণত এবং এই সকল রচনার মাধ্যমেই তিনি চিরস্মরনীয় হয়ে আছেন।

রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘যে আছে মাটির কাছাকাছি, সে কবির বাণী লাগি কান পেতে আছি’। সুকান্ত ছিলেন সেই মাটির কবি, তাই তাঁর কবিতা আমাদের হ্রদয়ের এত কাছাকাছি।

পার্টি ও সংগঠনের কাজে অত্যধিক পরিশ্রমের ফলে দুরারোগ্য ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ১৯৪৭ সালের ১৩ মে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

জন্মদিনে আমাদের এই প্রিয় কবিকে জানাই প্রণাম ও বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।।
Unlike ·  · Unfollow Post ·  · 19 hours ago
  • You and 25 others like this.
  • Sajjad Farazi প্রিয়তমাসু – সুকান্ত ভট্টাচার্য

    সীমান্তে আজ আমি প্রহরী।
    অনেক রক্তাক্ত পথ অতিক্রম ক’রে
    আজ এখানে এসে থমকে দাড়িয়েছি-

    স্বদেশের সীমানায়।

    দূসর তিউনিসিয়া থেকে স্নিগ্ধ ইতালী,
    স্নিগ্ধ ইতালী থেকে ছুটে গেছি বিপ্লবী ফ্রান্সে
    নক্ষত্রনিয়ন্ত্রিত নিয়তির মতো
    দুর্নিবার, অপরাহত রাইফেল হাতে;
    - ফ্রান্স থেকে প্রতিবেশী বার্মাতেও।

    আজ দেহে আমার সৈনিকের কড়া পোশাক,
    হাতে এখনো দুর্জয় রাইফেল,
    রক্তে রক্তে তরঙ্গিত জয়ের আর শক্তির দুর্বহ দম্ভ,
    আজ এখন সীমান্তের প্রহরী আমি।
    আজ নীল আকাশ আমাকে পাঠিয়েছে নিমন্ত্রণ,
    স্বদেশের হাওয়া বয়ে এনেছে অনুরোধ,
    চোখের সামনে খুলে ধরেছে সবুজ চিঠিঃ
    কিছুতেই বুঝি না কী ক’রে এড়াব তাকে?
    কী ক’রে এড়াব এই সৈনিকের কড়া পোশাক?
    যুদ্ধ শেষ। মাঠে মাঠে প্রসারিত শান্তি,
    চোখে এসে লাগছে তারই শীতল হাওয়া,
    প্রতি মুহূর্তে শ্লথ হয়ে আসে হাতের রাইফেল,
    গা থেকে খসে পড়তে চায় এই কড়া পোশাক,
    রাত্রে চাঁদ ওঠেঃ আমার চোখে ঘুম নেই।

    তোমাকে ভেবেছি কতদিন,
    কত শত্রুর পদক্ষেপ শোনার প্রতীক্ষার অবসরে,
    কত গোলা ফাটার মুহূর্তে।
    কতবার অবাধ্য হয়েছে মন, যুদ্ধজয়ের ফাঁকে ফাঁকে
    কতবার হৃদয় জ্বলেছে অনুশোচনার অঙ্গারে
    তোমার আর তোমাদের ভাবনায়।
    তোমাকে ফেলে এসেছি দারিদ্র্যের মধ্যে
    ছুঁড়ে দিয়েছি দুর্ভিক্ষের আগুনে,
    ঝড়ে আর বন্যায়, মারী আর মড়কের দুঃসহ আঘাতে
    বাব বার বিপন্ন হয়েছে তোমাদের অস্তিত্ব।
    আর আমি ছুটে গেছি এক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আর এক যুদ্ধক্ষেত্র।
    জানি না আজো, আছ কি নেই,
    দুর্ভিক্ষে ফাঁকা আর বন্যায় তলিয়ে গেছে কিনা ভিটে
    জানি না তাও।

    তবু লিখছি তোমাকে আজঃ লিখছি আত্মম্ভর আশায়
    ঘরে ফেরার সময় এসে গেছে।
    জানি, আমার জন্যে কেউ প্রতীক্ষা ক’রে নেই
    মালায় আর পতাকায়, প্রদীপে আর মঙ্গলঘটে;
    জানি, সম্বর্ধনা রটবে না লোক মুখে,
    মিলিত খুসিতে মিলবে না বীরত্বের পুরস্কার।
    তবু, একটি হৃদয় নেচে উঠবে আমার আবির্ভাবে
    সে তোমার হৃদয়।
    যুদ্ধ চাই না আর, যুদ্ধ তো থেমে গেছে;
    পদার্পণ করতে চায় না মন ইন্দোনেশিয়ায়
    আর সামনে নয়,
    এবার পেছনে ফেরার পালা।

    পরের জন্যে যুদ্ধ করেছি অনেক,
    এবার যুদ্ধ তোমার আর আমার জন্যে।
    প্রশ্ন করো যদি এত যুদ্ধ ক’রে পেলাম কী? উত্তর তার-
    তিউনিসিয়ায় পেয়েছি জয়,
    ইতালীতে জনগণের বন্ধুত্ব,
    ফ্রান্সে পেয়েছি মুক্তির মন্ত্র;
    আর নিষ্কণ্টক বার্মায় পেলাম ঘরে ফেরার তাগাদা।

    আমি যেন সেই বাতিওয়ালা,
    সে সন্ধ্যায় রাজপথে-পথে বাতি জ্বালিয়ে ফেরে
    অথচ নিজের ঘরে নেই যার বাতি জ্বালার সামর্থ্য,
    নিজের ঘরেই জমে থাকে দুঃসহ অন্ধকার।।
    15 hours ago · Unlike · 2
  • Sajjad Farazi দুর্মর – সুকান্ত ভট্টাচার্য

    হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ
    কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে,
    সে কোলাহলে রুদ্ধস্বরের আমি পাই উদ্দেশ

    জলে ও মাটিতে ভাঙনের বেগ আসে।

    হঠাৎ নিরীহ মাটিতে কখন
    জন্ম নিয়েছে সচেতনতার দান,
    গত আকালের মৃত্যুকে মুছে
    আবার এসেছে বাংলাদেশের প্রাণ।

    “হয় দান নয় প্রাণ” এ শব্দে
    সারা দেশ দিশাহারা,
    একবার মরে ভুলে গেছে আজ
    মৃত্যুর ভয় তারা।

    সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী
    অবাক তাকিয়ে রয়ঃ
    জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার
    তবু মাথা নোয়াবার নয়।

    এবার লোকের ঘরে ঘরে যাবে
    সোনালী নয়কো, রক্তে রঙিন দান,
    দেখবে সকলে সেখানে জ্বলছে
    দাউ দাউ করে বাংলাদেশের প্রাণ।।
    15 hours ago · Unlike · 2
  • Sajjad Farazi ছাড়পত্র – সুকান্ত ভট্টাচার্য

    যে শিশু ভূমিষ্ট হল আজ রাত্রে
    তার মুখে খবর পেলুমঃ
    সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,

    নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
    জন্মমাত্র সুতীব্র চীৎকারে।
    খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত
    উত্তোলিত, উদ্ভাসিত
    কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।
    সে ভাষা বুঝে না কেউ,
    কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।
    আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা
    পেয়েছি নতুন চিঠি আসন্ন যুগের-
    পরিচয়-পত্র পড়ি ভূমিষ্ট শিশুর
    অস্পষ্ট কুয়াশাভরা চোখে।
    এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
    জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তুপ-পিঠে
    চলে যেতে হবে আমাদের।
    চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
    প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল
    এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি-
    নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
    অবশেষে সব কাজ সেরে,
    আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
    করে যাব আশীর্বাদ,

    তারপর হব ইতিহাস।।
    15 hours ago · Unlike · 2
  • Sajjad Farazi Ria Dasgupta good job ! be careful ! onno id diyeo post korte pare .......... ami khub beshi bysto !
  • Ria Dasgupta ami dlt korechi re
  • Ria Dasgupta http://www.youtube.com/watch?v=Sur7mYcHu6U
    www.youtube.com
    This video create on the poem of Sukanta Bhattacharjee. and the poem dedicated to them who save our nation. We have to selute them. Jai Hind.....
  • Tuhin Vagabond আপনার লেখাটি 'যুক্তাক্ষর - সাহিত্য ব্লগ' পেইজে শেয়ার দিতে চাই।
    14 hours ago · Like · 1
  • Sajjad Farazi Tuhin Vagabond নিশ্চয় !
  • Anup Kumar Datta sundor..amar pronam janai..Ria Dasgupta..share korte pari amar page'e Kobita ebong Nayeeka golpo
  • Ria Dasgupta Anup dada nischoi share korte paren 
  • Prabhat Kumar nice post
    10 hours ago · Like · 1
  • Ria Dasgupta Tuhin Vagabond apni eilekhatir byapare kake jigges korechen jani na, tobe jehetu lekhati amar tai amar onumoti chara apni kothao post korben na. dhonnnobad
  • Shafiul Islam https://www.facebook.com/photo.php?v=10151182144364503&set=vb.771659502&type=3&theater
    বোধন ~ সুকান্ত ভট্টাচার্য ♥♪♥ Bodhon ~ Sukanata Bhattacharya ♥♪♥ শব্দের শব্দ শুনি আবৃত্তি: শফিকুল ইসলাম বাহার উপস্থাপনা: সুবর্ণা মুস্তাফা প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ নির্দেশনা ও পরিকল্পনা: শফিউল ইসলাম প্রযোজনা : প্রীতিলতা প্রকাশনী ১৯৮৯ ফেব্রুয়ারী ২১ ♥♪♥ Album: Shobder Shobdo Shuni Recitation: Shafiqul Islam Bahar Direction & Planning: Shafiul Islam Preetilota Prokashonee Dhaka 1989 Feb 21 :: Courtesy of: Life2Love ShafSymphony TexTek Solutions Vision Creates Value
    Length: 5:12



রিয়া দাশগুপ্তা :: Ria Dasgupta
কোলকাতা 
২০১৩ অগাস্ট ১৫

No comments:

Post a Comment