Showing posts with label Short Story. Show all posts
Showing posts with label Short Story. Show all posts

Friday, 19 June 2020

অনুগল্প: মৌরি - Fennel ♣

বলুনতো কী ...? 🌿 রোদে শুকানো ...! 🍁
🌿 হ্যাঁ, রোদে শুকিয়ে রাখা হার্ব, মৌরি। এটা প্যারেনিয়াল। একবার লাগাবেন। প্রতি বছর এর দেখা পাবেন। এর বীজ আসেপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এর বিশাল বিস্তার দেখবেন। প্রতিবেশিদেরও দিতে পারবেন। প্রায় সব রান্নায় ব্যবহার করা যায়। 🌿 আরো তথ্য পাবেন নিচের লিংকে।

রোদে শুকানো মৌরি -  Sun Dried Fennel 20200612

মৌরি গাছ - Fennel Plants 20190703

Fresh Fennel and Coriander with Lebanese Couscous, Peas 20180702

অনুগল্প: মৌরি

শ. ই.
শফিউল ইসলাম
কেমব্রিজ, ক্যানাডা
🍁
২০২০০৬১৯
Dry Fennel: https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10157498962584503&set=a.10153448709564503&type=3&theater

Fennel Plants: https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10156564546559503&set=a.10153448709564503&type=3&theater

Fresh Fennel: https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10155762393289503&set=a.10153448709564503&type=3&theater

Wednesday, 17 June 2020

অনুগল্প: কী শাক? - Yu Choy

আমার জন্ম উত্তর মেরুর মেক্সিকো। আমার পরিচয়? আমি 'চয়' পরিবারের সদস্য। ভাবিনি সীমানা পেরিয়ে কোনো এক দিনের অলস দুপুরে কারো তপ্ত কড়াইয়ে এভাবে আমার জীবন হবে সমাপ্ত। আমাকে কীভাবে খুব সহজেই সুস্বাদু করতে পারেন তার ভিডিও দেখুন নিচের লিংকে / মন্তব্যের ঘরে। আমি ও আমার পরিবারের সবাই অনেকের অনেক উপকার করে থাকি। কীভাবে? জেনে নিন। আর হ্যাঁ, চয় পরিবারের পরিচয় ও আরও চমকপ্রদ তথ্য পাবেন মন্তব্যের ঘরে / নিচের লিংকে। ভালো থাকুন। আনন্দে থাকুন। "... এ জীবন আনন্দযাত্রা ...!" 🌿

উঁ চয় - Yu Choy 20200614

PC: FB 20200616

অনুগল্প: কী শাক? - Yu Choy

শ. ই.
শফিউল ইসলাম
কেমব্রিজ, ক্যানাডা
২০২০০৬১৭
Yu Choy 🌿 Green Vegetables 🌿 Enjoy 🌿 PC FB 20200616

এই শাক 🌿 খুব সহজেই রান্না করা যায়। দেখুন এই ভিডিওতে ... 🌿🎥🌿 https://www.facebook.com/104418694540923/videos/555964345025274/

https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10157493720164503&set=a.10153448709564503&type=3&theater

Friday, 10 April 2020

অনুগল্প: কামরাঙ্গা - Star Fruit ♣

জন্মেছি সেই সুদূর তাইওয়ানে! ভাবিনি সীমানা পেরিয়ে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে কার মন রাঙ্গাতে তার সাথে আমার মিলন হবে উত্তর মেরুতে ক্যানাডার কেমব্রিজ শহরে! '... আনন্দ বেদনায় মিলন বিরহ সংকটে ...!' '... এ জীবন আনন্দযাত্রা ...!' 🐾

কামরাঙ্গা ♣ Star Fruit

অনুগল্প: কামরাঙ্গা

শফিউল ইসলাম
কেমব্রিজ , ক্যানাডা।
২০২০০৪১০

Star Fruit 🍁 Taiwan. 20200410. Zhers. $2.99.

Sunday, 18 January 2015

বিশ্বভরা প্রাণ ♥♪♥

[উত্সর্গ: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে]
সুবোধ ও অবোধের অল্প স্বল্প গল্প 
সুবোধ ও অবোধ দুই বন্ধু। সুবোধ চালাক-চতুর, ভদ্র-নম্র ও বিনয়ী। আর অবোধ হলো সহজ-সরল, হাবা-গোবা ও সত্যভাষী। জীবন-যুদ্ধে দু'জনের আশা-নিরাশার মিল-ঝিলমিল। সুবোধ ইনিয়ে-বিনিয়ে 'জীবন-যখন-যেমন' তেমন করে পথ চলে! আর অবোধ অপ্রিয় সত্য-খুঁজে প্রায়ই আপদ-বিপদ ডেকে আনে। দু'জনেই মুক্তমনা, শিল্পমনা ও বেশ রাজনীতি-সচেতন। প্রবাসে বসবাস। কিন্তু ওদের হৃদয় জুড়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও 'বিশ্বভরা প্রাণ!' সময়-সুযোগে দু'জনের দেখা হলেই জমে ওঠে বিভিন্ন বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক। শুনুন তাহলে অবোধ ও সুবোধের এক চিলতে তর্ক-বিতর্কের অংশ বিশেষ ....

অবোধ: রাজনীতি হলো জনগনের সেবা। মাননীয় নেতারা দীর্ঘ ৫ বছর কোনো কাজ না করে জনগনের কোষাগার থেকে বেতন ও অপার সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে। কী সেবা দিয়েছে তারা জনগনকে? অবরোধ! হরতাল! জালাও-পোড়াও! শোষণ-নির্যাতন! রাজনীতি কি পালাক্রমে লুটে-পুটে খাওয়ার পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনা? সুস্থ-সুন্দর রাজনীতি চাই। সাধারণ জনগনের উন্নতি চাই। প্রতিশ্রুতিশীল নতুন নেতৃত্ব চাই। যারা জনগনের সেবা প্রদানে দায়বদ্ধ।

সুবোধ: এক সময় বাঙ্গালীরা স্বপ্ন দেখে ছিল তারা শোষণ-মুক্ত হবে। সবার সমান অধিকার থাকবে। নেতারা কথা রাখেনি। তারা পালাক্রমে লুটে-পুটে নিজেরা বিত্তশালী হয়েছে। কারা নিয়ন্ত্রণ করছে এই দুষিত রাজনীতির চিত্রপট? কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, পরজীবি বকধার্মিক নেতা ও প্রতিপত্তিশালী স্বার্থনেষী সাম্রাজ্যবাদ। সবার লক্ষ্য হলো সীমিত সময়ে কে কতটা অর্থ সঞ্চয় করতে পারে! আজ পৃথিবীর ৯৫% সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ৫% পুঁজিবাদী। এই বিশ্ব-চিত্র বাংলাদেশেও সম্প্রসারিত! আর তাই বুঝি আজ সার্বিক-সুখ সুদূর 'সোনার হরিণ!'

অবোধ: রবীন্দ্রনাথ আশা করেছিলেন এই মানবসভ্যতার সংকট-সমাধানের উন্মেষ হবে ইউরোপ থেকে এবং সেই শান্তির ঢেউ একদিন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। কারণ ইউরোপ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনায় অনেক এগিয়ে। রবীন্দ্রনাথ সেই স্বপ্নের বীজ বুনে গেছেন। নোবেল প্রাইজের অর্থে গড়ে গেলেন 'শান্তি নিকেতন!' আর দেখতে পাই রবীন্দ্র-ভাবনায় সুদূর জার্মানীতে গড়ে উঠেছে 'স্কুল অফ উইসডম!' চিন্তা-চেতনা ও দূরদর্শী ভাবনার মৃত্যু নেই। স্বপ্ন অবিনাশী। বিশ্ব-শান্তির সেই সংলাপ রবীন্দ্রনাথ শুরু করে গেছেন। তিনি বিশ্বকে নিয়ে ভেবেছিলেন বলেই বিশ্বকবি। এবিষয়ে আরো জানতে পাবেন এই লিঙ্কে: life2love.weebly.com/tagore.html. এখানে সংরক্ষণ করেছি বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য লিংক এবং ডকুমেন্টারী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ক্লাসেস ও কথোপকথন। এগুলি যতবার পড়েছি, শুনেছি ও দেখেছি ততবার মনে হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বিশাল দূরদর্শী ভাবনাকে আমরা আসলেই কতটুকু ধারণ করতে পেরেছি? মনে হয়েছে এগুলি অনুভব করলে আমরা আরো ভালো ভালো শিল্পকলা, শিল্পী ও বিকশিত মানুষ পেতাম যারা সমাজ পরিবর্তনে জীবনের ছন্দ খুঁজে পেতেন ও সহায়ক শক্তি হিসেবে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারতেন।

সুবোধ: ঠিক বলেছিস। আর আরেকজন বাঙ্গালী নোবেল প্রাইজ পেলেন দরিদ্র-শোষণ ও সুদের ব্যবসায় সাফল্য দেখিয়ে! পৃথিবী এখন চলছে উল্টো পথে! এখানে এখন দাস-প্রথা বিলিয়ন-ডলার ব্যবসায় রুপ নিয়েছে। শোষণের মাত্রা সীমানা পরিয়েছে। অস্ত্র-সন্ত্রাস-যুদ্ধ-জঙ্গি ব্যবসা জমজমাট। তার পরেও বলবো আমাদের মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় আমাদের প্রাপ্তি অনেক। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির পরশ জীবন ছুঁয়েছে! অনেক ধনীরা ইদানিং বুঝতে শিখেছে এইসব ধন-সম্পত্তির মালিক শুধু তাদের নয়। তারা হাত-ভরে দিতে শিখেছে। অনেক গুণী শিল্পীরাও এখন মানুষের সুখ-শান্তির কথা ভাবছে। মানুষের মুক্তির জন্য কনসার্ট করছে। মুক্ত-মনা মানুষের প্রসার ঘটছে....। আর তাই রবীন্দ্র-ভাবনায় সুন্দর আগামী গড়ার প্রত্যয়ে এখনো স্বপ্ন দেখি 'আমার মুক্তি আলোয়, আলোয় এই আকাশে ....'

'...আমি অবাক হয়ে শুনি!' 'আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে...!'

'আগুনের
          পরশমণি
                   ছোঁয়াও প্রাণে।
  এ জীবন
          পুণ্য করো
                   দহন-দানে।
  আমার এই
          দেহখানি
                   তুলে ধরো,
  তোমার ওই
          দেবালয়ের
                   প্রদীপ করো,
  নিশিদিন
          আলোক-শিখা
                   জ্বলুক গানে।
  আগুনের
          পরশমণি
                   ছোঁয়াও প্রাণে।
  আঁধারের
          গায়ে গায়ে
                   পরশ তব
  সারা রাত
          ফোটাক তারা
                   নব নব।
নয়নের
    দৃষ্টি হতে
            ঘুচবে কালো,
  যেখানে
          পড়বে সেথায়
                   দেখবে আলো,
  ব্যথা মোর
          উঠবে জ্বলে
                   ঊর্ধ্ব-পানে।
  আগুনের
          পরশমণি
                   ছোঁয়াও প্রাণে।'

 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
 'সুরুল, ১১ ভাদ্র, ১৩২১'
tagoreweb.in 

♥♪♥
শফিউল ইসলাম
কেমব্রিজ, ওন্টারিও, কানাডা
২০১৫ জানুয়ারী ১৮
PC: FB Sweet Quotes Archive




Sunday, 24 August 2014

ছলা-কলা-কাহিনী ♥♪♥

[উত্সর্গ: দূরদর্শী চিত্রশিল্পী এস. এম. সুলতান ও মোস্তফা আজিজ-কে]

বাংলাদেশ দুর্নীতিতে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে অনেকবার। এখানে চলে অনেক রকমের ব্যবসা। চাঁদা-বাজি, ধান্দা-বাজি, ধর্ম-ব্যবসা ও স্কুল-ব্যবসা ইত্যাদি। এই গল্পটা শুনেছি, আমার অগ্রজ, নুরুন নাহার এর কাছ থেকে। উনি নিজেও একজন শিক্ষক। বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জের স্কুল-ব্যবসা। কাগজে-কলমে স্কুলের নির্ধারিত ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক রয়েছে নিয়মিত সরকারী অনুদান পাবার জন্য। সবকিছু ঠিক-ঠাক চলছে এবং কোনো দুর্নীতি-প্রতারণা হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য রয়েছে স্কুল-পরিদর্শক।

এক স্কুল-পরিদর্শক একবার এক গ্রামে স্কুল পরিদর্শন করতে গেছেন। স্কুল-কতৃপক্ষ গ্রামের খেত-খামার থেকে বেশ কয়েকজনকে ভাড়া করেছেন, ছাত্র-ছাত্রী হিসাবে। আজ এখানে স্কুল-পরিদর্শক-কে খুশী করবার জন্য নানা-ধরনের খাবার আয়োজন। স্কুল-পরিদর্শক যাচাই করছেন, এরা আসলেই প্রকৃত ছাত্র-ছাত্রী কিনা?

স্কুল-পরিদর্শক:---"আচ্ছা বলতো এক টাকায় চারটে কলা হলে, পাঁচ টাকায় কয়টা কলা কিনতে পারবে?"
বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী হাত তুললো।
স্কুল-পরিদর্শক:---"আচ্ছা, ওই পেছন-সারি থেকে তুমি বলো।"
ছাত্র:---"স্যার কি কলা?"
স্কুল-পরিদর্শক:---"ধরো, সাগর-কলা।"
ছাত্র:---"স্যার এক টাকায় চার-ডে সাগর-কলা! আপনার পাছার ভেতরে ঢুকায়ে দিবিনি! কলা অতো সস্তা না!"

আমাদের শিক্ষাক্রমে এরকমের অনেক অবাস্তব উদাহরণ ভুরিভুরি। আমাদের সামনে অপার সুযোগ - আসুন, আগে নিজে শিখি। তারপর, অন্যকে শেখাই। 'বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র।'


ফটো: কলা, ফেসবুক ২০১৪ জুলাই ২৮

♥♪♥
শফিউল ইসলাম
কেমব্রিজ, ওন্টারিও, ক্যানাডা
রচনাকাল: ২০১৪ জুলাই ২৮
প্রকাশকাল: ২০১৪ অগাস্ট ২৪
শেষ সম্পাদনা: ২০১৪ অগাস্ট ৩০

সৌজন্যে:
Life2Love
ShafSymphony
Vision Creates Value

Friday, 15 August 2014

নাম দিয়ে কাম কি?

নাজমীন চৌধুরী

' বৃক্ষ তোমার নাম কি? 
- ফলে পরিচয়!'
ছোট বেলায় এটা শুনলেই বেশ একটা ধাঁধায় পড়ে যেতাম। আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, পেয়ারা, বরই ও লিচু এবং এরকম আর কিছু ফলের গাছপালা খুব ভাল করে চিনতাম। আর মনে মনে ভাবতাম যে সব গাছপালা অচেনা তাদের ফুল-ফল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে! ছোটবেলার সেই আক্ষরিক জ্ঞানকে আমি তুচ্ছ মনে করি না।  'বৃক্ষ পরিচয় তার ফলে' আর সাধারণ নিয়মে মানুষের পরিচয়টা আসে প্রথমত তার নাম থেকে (পারিবারিক নাম, দেয়া নাম, অর্জিত নাম, উপাধি ... তা সে যে নামই হোক)। 
তাই জন্মের আগেই আমার মা আমার ঠিক করে রেখেছিলেন - আমার নাম হবে ইয়াছমীন। কি জানি উনি কেমন করে জানতেন আমি মেয়ে হোয়ে জন্মাব, সে যুগে তো সনোগ্রাফি ছিল না। ছেলে হোলে কি নাম রাখতেন জানতে চেয়েছি অনেকবার, উত্তর মেলে নি। নামটা ফাঁশ না হয় যাতে বোধ হয়। আলট্রা-সাউন্ড তো দূরের কথা, আমার জন্মলগ্নে উনি ডাক্তার বদ্যিও পান নাই; অজ গাঁয়ে জন্মেছি। তবে আমাকে ভূমিষ্ঠ করতে মা’র সব কষ্টের কথা শুনেছি। বাকি ভাই-বোনদের জন্মবেদনা গুলোকে একসাথে করলেও তা অতটা কষ্ট নয়, উনি বলেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীনিরা বলেছেন। ব্যাপারটা জানলে নিশ্চয় ওভাবে কষ্ট তাঁকে আমি দিতাম না। যাক, নাম প্রসঙ্গে ফিরিঃ আমার নামকরণ নিয়ে মা এত উৎসুক ছিলেন যে উনি তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ওরফে চাচাতো বোনটিকে সেটা জানান। হায়রে কপাল, মা’র চাচাতো বোনের মেয়ে আমাকে টেক্কা দিয়ে উনত্রিশ দিন আগে জন্ম নেয়। মা খুব দুঃখ পেয়েছিলেন আমার নামটা কয়েকটা দিন আগে তার হাত-ছাড়া হবার কারণে। তা আর কি করা। পরে খুঁজে খুঁজে, বাকি ভাই-বোন দের নামের সাথে মিল রেখে উনি আমার ডাক নামটা রেখেছেন।
কতগুলি বছর কাটল আমার সেই নামে। কারও আপত্তি শুনিনি তা নিয়ে। ঘর ছাড়া হতে হোল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। হলে বসবাসের শুরু। কি সেই আনন্দ! একে একে অনেক বন্ধু পেয়ে গেলাম। নাম জানতে সবাই আমাকে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করে, “নাজনীন?” আমি আবার বলি, “নাজমীন!” কেউ এ নাম কখনো শোনে নি আগে। আমার তাতে কিছু যায়-আসে না। আমি শুধু আমার নামটা কয়েকবার বলি যাতে তারা ঠিক মত শুনতে পায়, সেই আশায়। তিন দিন না যেতেই এক বন্ধু বলল, “শোন, আজ থেকে তোর নাম হলো নাজু। কেউ তোকে নাম জানতে চাইলে বলবি, নাজু!” আমি তার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে বলি, “কেন?” তার খুব সোজা উত্তর, নাজু শুনতে আধুনিক। খুশী হলাম আধুনিক নাম পেয়ে। তারপর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই  আমার গেঁয়ো নামটা গেলাম ভুলে। আধুনিক ত হতেই হয়। পিয়ার-প্রেসার। ক’সপ্তাহের ভেতর বিশ্ববিদ্যালয়ে যথারীতি গণ্ডগোল!  হল ভ্যাকেট। বাড়ি গেলাম। সপ্তাহ ফিরতেই চিঠি। বন্ধুর চিঠি। মা তো পিয়ন চাচাকে বললেন, “এটা আমাদের চিঠি না গো। এই নামে এই বাড়িতে কেউ নেই”। ওদের কথা শুনে একটু এগুলাম টিনের ফটকের দিকে। কার চিঠি মা? আমাদের না, মায়ের উত্তর। চাচাকে বললাম, একটু দেখি। উনি চিঠিটা আমকে ধরিয়ে দিতেই আমি বলে উঠি “সেকি?” এটা আমার চিঠি মা! আমার বান্ধবী লিখেছে, রাজবাড়ি থেকে। পিয়ন চাচা আমার হাতে চিঠিটা দিয়ে কেটে পড়লেন। বেচারা না জানি কতটা ভেবেছেন আমাকে নিয়ে সেদিন। 
মাকে আদ্য-পান্ত্য বুঝিয়ে বলি আমার নামের বিবর্তন প্রসঙ্গে। আমার মাও বেশ আধুনিক মনা। উনি ব্যাপারটা খুব সুন্দর দৃষ্টিতে নিলেন। আর নিবেনই বা কেনো? তার পছন্দের নামটা তো  দিতে পারেন নি। মায়ের চিন্তা-ধারায় যুক্তি ছিল এই যে, বাড়িতে যখন উনারা নায়র যাবেন, তাঁদের দুটো বালিকার একই নাম ভালো ত শোনাবেই না, বরং মানুষ ওদের বয়সটা জেনে ফেললে আমার মাকে কপি-ক্যাট মনে করবেন। তাতে মায়ের আপত্তি ছিল প্রবল। বিধায় আমাকে অন্য আর এক নাম দিতে হোল তাঁর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু আমার নামটা ত শুধু ছাঁটলই না একটু জোড়াতালি দিয়ে বেশ আধুনিক করে ফেললো। আমার নাম রাতারাতি বদলে যাওয়ায় অনেক আত্মীয়–স্বজন এবং প্রতিবেশীরা বললেন, “ঢং দেখোনা! যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কেউ পড়ে না!”
তথাস্তু! নাম বদলে গেল বলে তো আর আত্মীয় হারা হয়ে গেলাম না। দুই পক্ষই থাকা চাই।
আমার নাম নিয়ে বিড়ম্বনার শুরু মাত্র। বিয়ের পর অর্ধাঙ্গও দিলো নামের অর্ধেকটা কেটে, তাঁর মত করে। সে কারও টাই মানলো না। বলে কোন ‘মীন’ জিনিষই তার পছন্দ না। আমি দেখি বিপদ সংকেত। এখন কি করা! উনি বলেন আমার নাম হোল “নাজ”। আমি বলি নাজুতে কোন মীননেস নেই। সে বলে, “ওটা বন্ধুদের দেয়া নাম, তাতে কোন বিশেষত্ব নেই। অনেকটা ফ্যেক  নামের মত!” বিপদের উপর বিপদ, আমার নাম নিয়ে বিপদ। সেই খালা সম্পর্কীয় আত্মীয়ার উপর খুব রাগ হোল। তার মেয়ের উপরও। ইয়াছমীন খুব মিষ্টি একটা নাম, আধুনিকও। কেউ তা বদলাতে চাইত না নিশ্চয়!    
বিয়ের পর দেশ ত্যাগ। বিদেশে পা দিতেই টনক নড়ে গেল। এখন থেকে সার্টিফিকেটের নাম চলবে। কিন্তু সার্টিফিকেটে চোখ বুলিয়েই মাথায় হাত! কোথাও আমার মা, বন্ধু ও অর্ধাঙ্গের দেয়া নাম নেই। গলা শুকিয়ে কাঠ! মনে মনে নিজের নাম মুখস্ত করলাম যাতে ফস করে আবার উল্টাপাল্টা নাম না বলে বসি। বিভিন্ন নাম বললে টেররিস্টের দলে পড়ার বিপুল সম্ভাবনা।
ডাক্তারের ডাক পড়ল রুটিন চেক-আপের। তোমাদের ফ্যামিলি নাম আলাদা কেন? প্রশ্ন শুনে একটু সময় নিয়ে ভাবলাম। তারপর সাধ্যমত কালচার তুলে আনলাম।  বললাম, এটা আমাদের দেশে ব্যপার না। একটু জোকও করলাম। দেখো আবার যদি অন্য কাউকে বিয়ে করি, বার বার নাম বদলানো --- ইত্যাদি ইত্যাদি। ডাক্তার সাহেব কতটা তুষ্ট হয়েছিলেন জানার চেষ্টা করি নি। মনে মনে ভেবেছি, হ্যু কেয়ারস? হোয়াট-এভার!
শিখতে না শিখতেই ওদেশের পাট শেষ।
এবারে শুরু উত্তর আমেরিকায়।
এদেশে পাড়ি দিতে দিতে ভাবি আহা নতুন নতুন আবার কত কিছু শিখতে হবে রে! নিজের নাম ত দিব্যি মুখস্ত এখন। এরই ভেতর সংসারে লোক সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে কনফিউশনও। সন্তানদের বন্ধুরা আমাকে দুটো নতুন নামে ডাকে এখন। অনেক যোগ–বিয়োগ করে বাচ্চাদের নাম রেখেছিলাম। দুজনের নামই শুধু দুটো শব্দের বিন্যাসে রাখা। ফলে দেখা গেল এদের কোন মিডল নেম নেই। স্কুলের বন্ধুরা তো সেসবের বিন্দু মাত্রও জানে না। ওদের এটা জানার প্রয়োজনই বা কি? আমি ওদের ডাকে এখন দুটো নামেই সাড়া দেই। আর আমার সন্তানদের মিষ্টি হাসি উপভোগ করি। এরা বুঝে গেছে আমার নামে অনেক ভাঁজ।
এরা এটুকুও বুঝে গেছে যে, অভিবাসিদের নাম শুনলেই তাদের আদিবাস আঁচ করা যায়, অনেকটা। 'সিভিক্স এন্ড ক্যারিয়ারস প্রোজেক্ট' এ কাজ করতে গিয়ে এরা জেনেছে বেসিভাগ চাইনিজ বংশোদ্ভূতরা কেন ইংরেজি নাম বেছে নেয় এখানে। ওরা কেন ইংরেজি নামের পাশাপাশি নিজের জন্মগত নামটাও রাখে। ওদেরকে নাম জিজ্ঞেস করলে বলে আমার ইংলিশ নাম ‘এই’ আর চাইনিজ নাম ‘ওটা’। এদের নাম এডপশন নিয়ে লেখার অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধিমত্তা  আমার এত্তটুকুও নেই। সুতরাং বিপদ এড়াচ্ছি। তবে আমি চাইনিজ বংশোদ্ভূত অনেক ছোট ছোট বাচ্চাদের সান্নিধ্যে এসেছি। এদের অনেকেরই ডাক নাম আছে। নামগুলো শুনতে বেশ মিষ্টি এবং তাতে রিদমও আছে। অনেকটা এরকমঃ 'টিয়ানটিয়ান', 'ইয়াইয়া' এবং আরও অনেক নাম। সঙ্গত কারণে আমরা যেমন ছোটোবেলায় শুধু সার্টিফিকেটের নামটা খাতায় লিখতাম, এরাও তাই করে। পুবের কালচার?
কাজের মাধ্যমে এই বাচ্চাদের সাথে আমার যোগাযোগ। আমার কর্ম ক্ষেত্রে আমি সংখ্যায়, কালচারে ও রঙ্গের দিক থেকে একা। তবে তা অনুভব করি না, অত সময় কই? অবশ্য উপলব্ধি করি মাঝে মধ্যে। একটু আলাদা ধরনের নামধারী কেউ এলেই আমার কাছে কাগজ পৌঁছে যায় খুব তাড়াতাড়ি, “এই নামটা কিভাবে উচ্চারণ করতে হয়? আমি কি এই নামটা ঠিকমতো বলছি?” মাঝে মাঝে রাগ হয় আমার। আরে বাবা ডেকেই দেখনা, সে ব্যক্তি নিজেই তোমাকে শিখিয়ে দেবে তাঁর নাম! এটা বললে ওরা আমাকে আরও শক্ত করে চেপে ধরে। বলে, “না না বল কি? ফার্স্ট ইম্প্রেশন, নাম টা ঠিক মত বলা চাই। প্যারেন্টদের সাথে একটা ট্রাস্ট-ওয়ারদি রিলেশন বিল্ড করতে হবে”। কি জানি বাপু, মনে হয় পিয়ার-প্রেসার। ইনস্টিটিউশন এর মান ঠিক রাখার যুক্তি। তবে তাই হোক। আমিও চেষ্টা করি নাম গুলো ঠিকমতো উচ্চারণ করে দিতে। তারপর মনে মনে বলি, যাও আমার ঘরে গিয়ে দেখো, অর্ধাঙ্গ কয়বার ‘র’ ও ‘ড়’ শুধরে দিচ্ছে আমার। আর সন্তানেরা ইংরেজি। আর তোমরা কি না নামের উচ্চারণ নিয়ে দিশেহারা! যেন 'কাম নাই তাই ধান ঝাড়!'  
একদিন ব্যক্তিগত পাওনা ছুটিতে সময় কাটাচ্ছি। হঠাৎ ফোন এলো কাজ থেকে। মনে করলাম, নিশ্চয় কোন কিছু ওলটপালট করে রেখে এসেছি। বিরক্ত হয়ে বললাম, ‘হোয়াট নাউ?” উত্তর এলো, “তোমাকে বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত।" একটা নামের বানান জানিয়ে বলল, “এটা কিভাবে উচ্চারণ করো? ছ্যেবর?" আমি বলি, সাবীড়! তারপর দ্বিতীয় নামের বানান দিয়ে, "এটা?" আমার তীক্ষ্ণ উত্তর, “এটা স্প্যানিশ নাম! আলেহান্দ্রকে জিজ্ঞেস করো, আমার উচ্চারণ ঠিক হবে না!“

ক্যামব্রিজ, ওন্টারিও, ক্যানাডা
রচনাকাল: ২০১৪ অগাস্ট ১৫
প্রকাশকাল: ২০১৪ অগাস্ট ১৫
শেষ সম্পাদনা: ২০১৪ অগাস্ট ১৯


Garden Composition: SNC. Photo Credit: VCV.

Sunday, 3 August 2014

জন্মদিন ও প্রতিদিনের জন্য শুভ কামনা

নাজমীন চৌধুরী
August 3, 2014 at 5:22pm
দীপ ও অর্ক দুই ভাই। ওদের সখ্যতা গলায় গলায়। পোঁচানব্বই ভাগ সময়!                                                  
(বনফুলের নিমাই ও বলাই দের মত। তবে লটারি জেতে নাই কেউ এখনো)

ওদের  শৈশব -  
তিন বন্ধু একসাথে। শুধু দুটো চকোলেট সবার জন্যে। সমাধান?

দঃ নিজেকে প্রথমটা। বাকীটা অন্য দুজনের, ভাগে অর্ধেক।
অঃ নিজেকে সান্ত্বনা, ওগুলো বন্ধুদের খুব পছন্দের চকোলেট! দুই বন্ধু = দুটো চকোলেট।

কিশোর বেলা -     
পছন্দের বই (অনেক। কয়েকটা নীচে দেয়া)

দঃ জেরনিমো  স্টিলটন, হ্যারিপটার সিরিজ ---
অঃ গ্রীক মিথলোজি, হাঙ্গার গ্যেম সিরিজ ---

হাই স্কুল, প্রথম বর্ষ - 
বিষয়ঃ রোমিও এন্ড জুলিয়েট

দঃ সারমর্ম জানতে গুগল সার্চ। এই সাহিত্যের যে কোন প্রশ্নের উত্তর দেবার প্রস্তুতি।
অঃ বই মায়ের হাতে ধরিয়ে দিয়ে, “যে কোন কোটেশন ও প্রস্ন করো ত! দেখি, আমি রেডি কি না”।

খেলার খবর  –
খেলা-পাগল

দঃ বাস্কেট বলে হাত ভাঙ্গা
অঃ ডজ বলে দাঁত ভাঙ্গা

লঙ টার্ম গোল - 

দঃ অনেক ধনী হবার
অঃ হারিয়ে যাওয়া কিশরগুলকে পথে আনার

সময় দৌড়াচ্ছে, খুব দ্রুত। দীপ একুশ আর অর্ক পনর, এমাসে। ওদের জন্য শুভকামনা, অনন্তকালের!

২০১৪ অগাস্ট ০৩
ক্যানাডা



Lilac Leaves ♥♪♥ Geranium :: Composition: SNC
Photo Credit: SAI, VCV