Showing posts with label Humayun Azad. Show all posts
Showing posts with label Humayun Azad. Show all posts

Monday, 16 February 2015

আলোর ঝরনাধারা : ড. আহমদ শরীফ

[উৎসর্গ: দূর আকাশের তারা - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]

ড. আহমদ শরীফ আমার প্রিয় শিক্ষক। তাঁর দূরদর্শিতার স্পর্শে জীবন হয়ে ওঠে আলোর ঝরনাধারা! আশির দশকে সরাসরি তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছি কয়েকবার। কখনো আলোচনা সভায়। কখনো রমনা পার্কে। কখনো তাঁর বাসায় বৃহস্পতিবারের আড্ডায়। টেক্সটাইল কলেজে কোনো শিক্ষকের ভিতর আলোর শিখা দেখিনি। আমরা যে শিক্ষাদীক্ষার আলোর শিখা খুঁজছি সেটা টেক্সটাইল কলেজে পাইনি। আর তাই সীমানা পেরিয়েছি! ছুটে গেছি আলোর পরশ পেতে-- আলোকিত মানুষ হবার প্রত্যয় ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে। আশির দশকে টেক্সটাইল কলেজে তখন দুর্বিষহ দুরবস্থা ও দুর্যোগের ঘনঘটা।

আমরা চেষ্টা করেছিলাম এই বিরূপ পরিবেশ বদলে দিতে। গড়েছিলাম 'প্রগতি পাঠচক্র' ও 'প্রীতিলতা প্রকাশনী।' আমাদের এক দূরদর্শী আয়োজন ছিল 'এসো জীবনের গল্প শুনি, জীবনকে গড়ে তুলি।' কতটা সফল হয়েছি জানিনে। তবে এসময় বেশ কিছু ভালো ছাত্র টেক্সটাইল কলেজ ছেড়ে চলে যায়। আমরা ধর্মীয়-রাজনীতি-সন্ত্রাসী-প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের নির্যাতনের শিকার হই। সেসময় আহত হয় এক মেধাবী ছাত্র - একরামুল হক টপী! টপী'র মাথা ফাটিয়ে দেয় জামাত-শিবিরের পান্ডারা! টপী রক্তাত অবস্থায় অধ্যক্ষের কক্ষে ছুটে এসে বিচার চায়! আমাদের দুর্ভাগ্য এই স্বাধীন বাংলায় আমাদের মুক্তচিন্তার স্বাধীনতা নেই। এই টপীই আমাকে একদিন নিয়ে যায় কোনো এক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ড. আহমদ শরীফের বাসায়।

শুনুন একরামুল হক টপী'র কবিতা: সবুজ শ্যামলিমার দেশে সূর্যোদয়
অ্যালবাম: শব্দের শব্দ শুনি
প্রীতিলতা প্রকাশনী। ১৯৮৯ ফেব্রুয়ারি।

আশির দশকে আমি এত মধুর যুক্তিতর্ক ও মুক্তচিন্তা-চর্চার পরিবেশ এই প্রথম দেখলাম। জ্ঞানপিপাসু ছাত্র, শিক্ষক, লেখক ও সাংবাদিকদের সমাবেশ। সমস্যা-সংকট-সমাধানের মুক্তমঞ্চ! বিতর্কই বিকাশের পথ। বিজ্ঞ-বিতর্ক শেষে সবার জন্য মধুর আপ্যায়ন-- সুস্বাদু পায়েস। যে চর্চা হওয়ার কথা সব বিদ্যাপীঠে সেটা হচ্ছে এক সাহসী স্বপ্ন-সঞ্চারী শিক্ষকের বাসায়। অন্য সবাই যখন পরচর্চা ও প্রচারে বিভোর, তখন এই আত্মত্যাগী শিক্ষক প্রত্যয়ী ও প্রতিশ্রুতিশীল আগামী প্রজন্ম গড়ার বীজবপন ও লালনপালনে বিভোর।

এরশাদের স্বৈরশাসনের সেই দু:সময়ে শহিদমিনারের পাদদেশে স্যারের সাহসী বক্তব্য শুনেছি। স্যার প্রতিবাদ করেছিলেন ধর্ম কীভাবে নারীদের বস্তাবন্দি করবে। নারীদের সতর্ক করেছিলেন। সেই দিনের সেই কথার মিল-ঝিলমিল এখন দেখতে পাই, যেদিকেই তাকাই। এখন নারীরা বস্তাবন্দি হবার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

একদিন শিল্পকলা একাডেমিতে সাংবাদিকদের এক সম্মেলনে স্যারের বক্তৃতার কথা মনে পড়ছে। স্যার প্রধান অতিথি। গিয়াস কামাল চৌধুরী সভাপতি। শুনুন তাহলে, আমার স্মৃতির পাতা থেকে সেদিনের স্যারের বক্তৃতার অংশবিশেষ:
"... আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। কৃষকের শ্রমের পয়সায় পত্রিকা চলে-- আপনাদের জীবিকা চলে। আপনারা 'কুলখানি/বালখানি'র সংবাদ ছেপে সারা পত্রিকার পাতা ভরে ফেলেন। এগুলি কৃষকের কী উপকারে আসে? এগুলি মানুষের কী উপকারে আসে? কৃষকদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাঁদের খবর আপনারা কতটুকু ছাপেন? ..." এই হলো স্যারের সত্য বলার অবিচল সাহস; ক্ষতি স্বীকারের শক্তি! বিনয়বিহীন বিদ্রোহ!

আজ আমাদের দেশের সংকটে স্যারকে খুব বেশী করে মনে পড়ছে। দেশ পুড়ছে, মানুষ জ্বলছে; আর আমাদের চারপাশের সুবিধাবাদী সুশীল সমাজের বিনয় ও প্রতারণা দেখে বিচলিত হই। কারো যেন ক্ষতি স্বীকারের শক্তি নেই। তাই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস-- আমার প্রাণপ্রিয় শিক্ষকের কিছু চিন্তাধারা নিয়ে সাজিয়েছি আজকের আলোর ঝরনাধারা:
'আমার পুঁজি হচ্ছে আমার ক্ষতি স্বীকারের শক্তি।'
'... বিশ্বাস হচ্ছে যুক্তির অভাব। ...'
'... বিশ্বাসের দুর্গে আঘাত করেছি, কেননা বিশ্বাস হচ্ছে যুক্তির অভাব। ...'
'... শাস্ত্রীয় আচার-আচরণ সবটাই কুসংস্কার। ...'
'... স্রষ্টা থাকতে পারেন, কিন্তু শাস্ত্র থাকবে তার কোনো কথা নেই। ...'
'... কৃত্রিম বিনয়ে অনেকেই বিনীত। বিনীত মানুষেরা সুবিধাবাদী হয়। ...'
'... সংশোধিত মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। তাদের মধ্যে তো মিল হয়ে গেছেই। ...'
'... বিয়ে হচ্ছে সমাজ স্বীকৃত যৌনসম্ভোগের অধিকার। ...'
'... বাঙালি সংস্কৃতির কোনো চিরস্থায়ী রূপ নেই। ...'
'... শেখ মুজিব সম্পর্কে: 'তাঁর নেতৃত্বের যোগ্যতা ছিল না। তিনি সাহসী ছিলেন, ভালো আন্দোলনকারী ছিলেন।'
'... মানুষের মনের বিকাশ ঘটে তিনটি জ্ঞানে-- সাহিত্য, ইতিহাস ও দর্শনে; এখনকার দিনে সমাজবিজ্ঞানে। ...'
'... জীবন এক ঐশ্বর্য। হারাতে চায় কে? ...'

এই কথাকলিগুলি স্যারের ২৪ পৃষ্ঠার  সাক্ষাৎকার থেকে আমার পছন্দের অংশবিশেষ! এই সাক্ষাৎকারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ বিমূর্ত-- যা সময় ও সংকটের ক্রান্তিকালে ক্ষতি স্বীকারের শক্তিতে সাহসী প্রতিবাদ।

আশা করি, স্যারের এই কথাকুঞ্জ আপনাদের মনোজগতে দোলা দেবে, ঢেউ তুলবে। চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটাবে ও পরিবর্তন আনবে-- প্রেরণা যোগাবে। সুন্দর আগামী গড়ার অগ্রযাত্রায় অনাবিল সাহস সঞ্চার করবে।

ড. আহমদ শরীফ সম্পর্কে ড. হুমায়ুন আজাদের মূল্যবান মূল্যায়ন এই সাক্ষাৎকারকে করেছে সমৃদ্ধ। শুনুন তার অংশবিশেষ:
"... প্রতিবাদী তিনি; দেবতারা যেখানে ভয় পায় তিনি সেখানে উদ্ধত শিরে উপস্থিত হন। ..."
"... আমাদের সমাজের প্রধান ব্যক্তিদের মধ্যে ডক্টর আহমদ শরীফই সম্ভবত একমাত্র পুরুষ, যিনি সকলের কাছে প্রিয় হওয়ার দুর্বলতাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ..."
"... আমাদের এ নষ্ট সমাজে খাপ-খাওয়া মানুষেরা খুবই নষ্ট; সৎ ব্যক্তিমাত্রই খাপ-না-খাওয়া মানুষ। ডক্টর আহমদ শরীফও তাই। ..."
"... ডক্টর আহমদ শরীফের মতো মানুষেরা শুধু সমকালের নন, তাঁরা কালান্তরের। তাঁরা শুধু বিশেষ একটি সময়ে জ্ঞান বিতরণ করেন না, বিতরণ করেন কাল থেকে কালে, শতাব্দী পরম্পরায়। আমাদের ভাগ্য ডক্টর আহমদ শরীফ আছেন আমাদের এ-দুর্গত বিবেকশূন্য বাঙলায়।"

দেশের সংকট ও দুর্যোগে স্যারের চারটে কালজয়ী বাণী যেন কখনো ভুলে না যাই:
১. জিজ্ঞাসা-বৃত্তির দীপ্তি!
২. ক্ষতি স্বীকারের শক্তি!
৩. প্রতারক ও নষ্ট রাজনীতির পোষক-তোষক কারা?
৪. কীভাবে দেশকে ভালবাসতে হয়?

ছবি: ভি.সি.ভি.। ডিজাইন: আসমা সুলতানা।
ছবি: ভি.সি.ভি.। ডিজাইন: আসমা সুলতানা।
ছবি: ফেসবুক, ফেসবুক, আকাশভরা সূর্য-তারা।
ছবি: ফেসবুক, আকাশভরা সূর্য-তারা।

বিনয় নয় বিদ্রোহ চাই! প্রতারণা ও নষ্ট রাজনীতির বিনাশ চাই! দেশকে ভালোবাসি, আর তাই ডাক দিয়ে যাই! 'নতুন দিনের ডাক, সাহসে ভরে যাক!'

♥♪♥
শফিউল ইসলাম
কেমব্রিজ, ওন্টারিও, ক্যানাডা
২০১৫ ফেব্রুয়ারি ১৬
সম্পাদনা: ২০২০ এপ্রিল ১৪
♥♪♥

তথ্য সূত্র: 'আহমদ শরীফ : পণ্ডিত ও বয়স্ক বিদ্রোহী,' 'হুমায়ুন আজাদ - সাক্ষাৎকার,' আগামী প্রকাশনী, মে ২০০৪, পৃষ্ঠা ৩০-৫৩। বিচিত্রা : ১৩: ৩৬; ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫ : ৩ ফাল্গুন ১৩৯১।
ফেসবুক, 'Words of Wisdom ~*~ Sweet Quotes' ও 'আকাশভরা সূর্য-তারা' আর্কাইভ।

Tuesday, 17 April 2012

Shimul Mustapha - Amar Kurey Ghore (Humayun Azad)

Shimul Mustapha - Amar Kurey Ghore (Humayun Azad)


Shimul Mustapha - Amar Kurey Ghore (Humayun Azad)
Rakhal ChheleRakhal Chhele·286 videos
55
108 views
Like 0     Dislike 0
Published on Apr 17, 2012
আমার কুঁড়েঘরে নেমেছে শীতকাল
তুষার জ'মে আছে ঘরের মেঝে জুড়ে বরফ প'ড়ে আছে
গভীর ঘন হয়ে পাশের নদী ভ'রে
বরফ ঠেলে আর তুষার ভেঙে আর দু-ঠোঁটে রোদ নিয়ে
আমার কুঁড়েঘরে এ-ঘন শীতে কেউ আসুক।

আমার গ্রহ জুড়ে বিশাল মরুভূমি
সবুজ পাতা নেই সোনালি লতা নেই শিশির কণা নেই
ঘাসের শিখা নেই জলের রেখা নেই
আমার মরুভূর গোপন কোনো কোণে একটু নীল হয়ে
বাতাসে কেঁপে কেঁপে একটি শীষ আজ উঠুক।

আমার গাছে গাছে আজ একটি কুঁড়ি নেই
একটি পাতা নেই শুকনো ডালে ডালে বায়ুর ঘষা লেগে
আগুন জ্ব'লে ওঠে তীব্র লেলিহান
বাকল ছিঁড়েফেড়ে দুপুর ভেঙেচুরে আকাশ লাল ক'রে
আমার গাছে আজ একটা ছোট ফুল ফুটুক।

আমার এ-আকাশ ছড়িয়ে আছে ওই
পাতটিনের মতো ধাতুর চোখ জ্বলে প্রখর জ্বালাময়
সে-তাপে গ'লে পড়ে আমার দশদিক
জল ও বায়ুহীন আমার আকাশের অদেখা দূর কোণে
বৃষ্টিসকাতর একটু মেঘ আজ জমুক।

আমার কুঁড়েঘরে নেমেছে শীতকাল
তুষার জ'মে আছে ঘরের মেঝে জুড়ে বরফ প'ড়ে আছে
গভীর ঘন হয়ে পাশের নদী ভ'রে
বরফ ঠেলে আর তুষার ভেঙে আজ দু-ঠোঁটে রোদ নিয়ে
আমার কুঁড়েঘরে এ-ঘন শীতে কেউ আসুক।

আমার কুঁড়েঘরে
কবি: হুমায়ুন আজাদ
আবৃত্তি: শিমুল মুস্তাফা

Shimul Mustapha - Amader Maa (Humayun Azad)

Shimul Mustapha - Amader Maa (Humayun Azad)


Shimul Mustapha - Amader Maa (Humayun Azad)
Rakhal ChheleRakhal Chhele·286 videos
55
421 views
Like 1     Dislike 0
Published on Apr 17, 2012
আমাদের মাকে আমরা বলতাম তুমি, বাবাকে আপনি।
আমাদের মা গরিব প্রজার মত দাঁড়াতো বাবার সামনে,
কথা বলতে গিয়ে কখনোই কথা শেষ ক'রে উঠতে পারতোনা।
আমাদের মাকে বাবার সামনে এমন তুচ্ছ দেখাতো যে
মাকে আপনি বলার কথা আমাদের কোনোদিন মনেই হয়নি।
আমাদের মা আমাদের থেকে বড় ছিলো, কিন্তু ছিলো আমাদের সমান।
আমাদের মা ছিলো আমাদের শ্রেণীর, আমাদের বর্ণের, আমাদের গোত্রের।
বাবা ছিলেন অনেকটা .... মতো, তার জ্যোতি দেখলে আমরা .... দিতাম
বাবা ছিলেন অনেকটা সিংহের মতো, তার গর্জনে আমরা কাঁপতে থাকতাম
বাবা ছিলেন অনেকটা আড়িয়াল বিলের প্রচণ্ড চিলের মতো, তার ছায়া দেখলেই
মুরগির বাচ্চার মতো আমরা মায়ের ডানার নিচে লুকিয়ে পড়তাম।
ছায়া সরে গেলে আবার বের হয়ে আকাশ দেখতাম।
আমাদের মা ছিলো অশ্রুবিন্দু-দিনরাত টলমল করতো
আমাদের মা ছিলো বনফুলের পাপড়ি;-সারাদিন ঝরে ঝরে পড়তো,
আমাদের মা ছিলো ধানক্ষেত-সোনা হয়ে দিকে দিকে বিছিয়ে থাকতো।
আমাদের মা ছিলো দুধভাত-তিন বেলা আমাদের পাতে ঘন হয়ে থাকতো।
আমাদের মা ছিলো ছোট্ট পুকুর-আমরা তাতে দিনরাত সাঁতার কাটতাম।
আমাদের মার কোনো ব্যক্তিগত জীবন ছিলো কিনা আমরা জানি না।
আমাদের মাকে আমি কখনো বাবার বাহুতে দেখি নি।
আমি জানি না মাকে জড়িয়ে ধরে বাবা কখনো চুমু খেয়েছেন কি না
চুমু খেলে মার ঠোঁট ওরকম শুকনো থাকতো না।
আমরা ছোট ছিলাম, কিন্তু বছর বছর আমরা বড় হতে থাকি,
আমাদের মা বড় ছিলো, কিন্তু বছর বছর মা ছোটো হতে থাকে।
ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময়ও আমি ভয় পেয়ে মাকে জড়িয়ে ধরতাম।
সপ্তম শ্রেণীতে ওঠার পর ভয় পেয়ে মা একদিন আমাকে জড়িয়ে ধরে।
আমাদের মা দিন দিন ছোটো হতে থাকে
আমাদের মা দিন দিন ভয় পেতে থাকে।
আমাদের মা আর বনফুলের পাপড়ি নয়, সারাদিন ঝরে ঝরে পড়েনা
আমাদের মা আর ধানক্ষেত নয়, সোনা হয়ে বিছিয়ে থাকে না
আমাদের মা আর দুধভাত নয়, আমরা আর দুধভাত পছন্দ করিনা
আমাদের মা আর ছোট্ট পুকুর নয়, পুকুরে সাঁতার কাটতে আমরা কবে ভুলে গেছি।
কিন্তু আমাদের মা আজো অশ্রুবিন্দু, গ্রাম থেকে নগর পর্যন্ত
আমাদের মা আজো টলমল করে।

কবিতা: আমাদের মা
কবি: হুমায়ুন আজাদ
আবৃত্তি: শিমুল মুস্তাফা
এলবাম: জননী যন্ত্রণা

Sunday, 4 March 2012

স্মরণ-সত্য প্রকাশের দায়ে ~ মোহাম্মদ আলী

স্মরণ-সত্য প্রকাশের দায়ে by মোহাম্মদ আলী

হুমায়ুন আজাদের অভাব আজ আমরা গভীরভাবে অনুভব করি। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন, আমাদের কাঁদিয়ে গেছেন। কিন্তু তার ভাষাতত্ত্ব, প্রবন্ধ সাহিত্য, উপন্যাস, কিশোর সাহিত্যের মধ্যে তিনি বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন। যখন তার কোনো রচনা পাঠ করি তাকে স্মরণ করি।

তিনি জীবন্ত হয়ে আমাদের ভেতরে ফিরে আসেন। তাকে ভীষণভাবে অনুভব করি

হুমায়ুন আজাদ জন্মেছিলেন মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরের রাঢ়ীখালে। পদ্মার পিঠ ছুঁয়ে রাঢ়ীখাল মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তার বুকের ওপর দিয়ে একটি পিচঢালা পথ চলে গেছে। বোধহয় সেই ব্যথায় তার বুক টনটন করে।
হুমায়ুন আজাদ যেন সেই ব্যথা একসময় অনুভব করেছিলেন। তিনি তার কৈশোর ও যৌবনের কিছু অংশজুড়ে অকৃত্রিম রাঢ়ীখালকে পেয়েছিলেন। তিনি আড়িয়ল বিলের চকচকে রূপালি সরপুঁটি মাছ দেখেছেন। কচুরি ফুলের ঘ্রাণ পেয়েছেন। মাঠে মাঠে সোনালি ধানের ঢেউখেলা বাতাস দেখেছেন। শীতকালে খেজুর রসে সিক্ত পিঠে খেয়েছেন প্রাণভরে।
প্রথম জীবনে লেখাপড়া করেছেন স্যার জগদীশচন্দ্র বোস ইনস্টিটিউশনে, এরপর ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাতত্ত্বের ওপর উচ্চতর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
চাকরি করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্বদেশ ছেড়ে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা তিনি একদম পছন্দ করতেন না। অভিবাসী বাঙালিদের জীবনযাপন সম্পর্কে তিনি বলেছেন, 'নতুন কৃতদাসের জীবন।'
তাকে খুব কাছ থেকে দেখা এবং তার সঙ্গে একান্ত ঘনিষ্ঠভাবে মেশার আমার সুযোগ হয়েছে। তিনি ঘড়ির কাঁটা ধরে চলতেন। কখনও কোথাও যাওয়ার কথা থাকলে নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে তিনি পেঁৗছতেন। কাউকে কথা দিলে সে কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন।
হুমায়ুন আজাদ কেমন মানুষ ছিলেন? আমার কাছে এ প্রশ্নের উত্তর হলো_ সাধারণত কোনো ঘটনা বা বিষয় যখন আমরা চিন্তা করি তখনই একজন মানুষকে বুঝতে পারি। হুমায়ুন আজাদ চিন্তা-দর্শনের দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ছিলেন। যেমন ধরুন, একুশে ফেব্রুয়ারি এলে বাংলা ভাষা সর্বস্তরে প্রচলন করার দাবি ওঠে। তিনি বলতেন, মতিঝিলে বাংলার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষা ব্যবহৃত হয়। সচিবালয়ে বাংলা ভাষা সম্পূর্ণ গুরুত্বহীন। উত্তরপাড়ায় বাংলায় ভাষা সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত। তাহলে বাংলা ভাষা কীভাবে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠালাভ করবে? যারা রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিচালনা করেন তারা যদি মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা, অবহেলা করেন, তাহলে এই ভাষা কখনও সর্বজনীন ভাষারূপে সমাজে প্রতিষ্ঠালাভ করতেন পারবে না।
আমাদের প্রচলিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা এসব নিয়ে তিনি ছিলেন সমালোচনামুখর। এ দেশের বড় বড় বিদ্যাপীঠকে তিনি খেদ করে 'ফোরকানিয়া মাদ্রাসা'র সঙ্গে তুলনা করেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলো যেভাবে মৌলবাদীদের আড্ডাখানায় পরিণত হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করে তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।
হুমায়ুন আজাদ একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন। শোষণহীন প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তার স্বপ্নের বাংলাদেশ কবে প্রতিষ্ঠিত হবে?
তিনি সে কারণে লেখার ভেতরে প্রচলিত ধ্যান-ধারণা, সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, ভণ্ডামি-কপটতা, স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে কলমযুদ্ধ চালিয়েছিলেন।
কিন্তু ঘাতক মৌলবাদীরা তার লেখার সমালোচনা না করে তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছিল।
সত্য প্রকাশের জন্য যেভাবে ব্রুনোকে জীবন দিতে হয়েছিল, হাইফেসিয়াকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, গ্যালিলিওকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল, তেমনি হুমায়ুন আজাদকে মৌলবাদের চাপাতির আঘাতে রক্তাক্ত হতে হয়েছে। যদিও তিনি প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। কিছুটা সুস্থ হওয়ার কিছুদিন পর একটি গবেষণাকাজে জার্মানিতে গিয়েছিলেন। সেখানে রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয়। ধারণা করা হয়, এর পেছনে মৌলবাদীদের হাত থাকতে পারে।
হুমায়ুন আজাদের অভাব আজ আমরা গভীরভাবে অনুভব করি। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন, আমাদের কাঁদিয়ে গেছেন। কিন্তু তার ভাষাতত্ত্ব, প্রবন্ধ সাহিত্য, উপন্যাস, কিশোর সাহিত্যের মধ্যে তিনি বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন। যখন তার কোনো রচনা পাঠ করি তাকে স্মরণ করি। তিনি জীবন্ত হয়ে আমাদের ভেতরে ফিরে আসেন। তাকে ভীষণভাবে অনুভব করি। কিন্তু জীবন এবং মৃত্যু অবধারিত। তাকে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
আজ সেই অমর একটি বাণীর কথা মনে পড়ে_ 'কোনো কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের চেয়েও ভারী_ কোনো কোনো মৃত্যু বেলে হাঁসের পালকের চেয়েও হালকা।' হুমায়ুন আজাদের মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী। তার মৃত্যু বাংলাদেশকে যেভাবে কাঁদিয়েছে; খুব কম মৃত্যুই এভাবে কোনো জাতিকে কাঁদাতে পারে।
কিন্তু হুমায়ুন আজাদের মৃত্যু নেই। তিনি মৃত্যুহীন। তিনি তাঁর সাহিত্য, কর্মময় জীবনের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবেন।
তার হত্যা প্রচেষ্টাকারীদের একদিন শাস্তি পেতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকার তার হত্যা প্রচেষ্টাকারীদের সত্যিকারের বিচার করবে_ এটাই জনগণের প্রত্যাশা। সাম্প্রদায়িকতা পরাস্ত হবে_ একদিন প্রগতিশীলরাই জয়ী হবে।
 

মোহাম্মদ আলী : সাংস্কৃতিক কর্মী
nanditaali@gmail.com 
 

Sunday, 26 December 2010

আমাদের মা - হুমায়ুন আজাদ

আমাদের মা - হুমায়ুন আজাদ।

আমাদের মাকে আমরা বলতাম তুমি, বাবাকে আপনি।
আমাদের মা গরীব প্রজাদের মত দাঁড়াতো বাবার সামনে,
কথা বলতে গিয়ে কখনই কথা শেষ করে উঠতে পারতোনা।
আমাদের মাকে বাবার সামনে এমন তুচ্ছ দেখাতো যে-
মাকে আপনি বলার কথা আমাদের কোনদিন মনেই হয়নি।
আমাদের মা আমাদের চেয়ে বড় ছিলো, কিন্তু ছিলো আমাদের সমান।
আমাদের মা ছিলো আমাদের শ্রেনীর, আমাদের বর্ণের, আমাদের গোত্রের।
বাবা ছিলেন অনেকটা আল্লাহ'র মত, ত
াঁর জ্যাতি দেখলে আমরা সেজদা দিতাম।
বাবা ছিলেন অনেকটা সিংহের মত, তাঁর গর্জনে আমরা কাঁপতে থাকতাম।
বাবা ছিলেন অনেকটা আড়িয়াল বিলের প্রচন্ড চিলের মত, তার ছায়া দেখলেই
মুরগীর বাচ্চার মত আমরা মায়ের ডানার নিচে লুকিয়ে পড়তাম।
ছায়া সরে গেলেই আবার বের হয়ে আকাশ দেখতাম।
আমাদের মা ছিলো অশ্রুবিন্দু-দিনরাত টলমল করতো,
আমাদের মা ছিলো বনফুলের পাপড়ি-সারাদিন ঝরে ঝরে পড়তো,
আমাদের মা ছিলো ধানক্ষেত-সোনা হয়ে দিকে দিকে বিছিয়ে থাকতো।
আমাদের মা ছিলো দুধভাত-তিনবেলা আমাদের পাতে ঘন হয়ে থাকতো।
আমাদের মা ছিলো ছোট্ট পুকুর-আমরা তাতে দিনরাত সাঁতার কাটতাম।
আমাদের মার কোন ব্যাক্তিগত জীবন ছিলো কিনা আমরা জানিনা।
আমাদের মাকে কখনো বাবার বাহুতে দেখিনি।
জানিনা মাকে জড়িয়ে ধরে বাবা কখনো চুমু খেয়েছেন কিনা
চুমু খেলে মার ঠোট ওরকম শুকনো থাকতোনা।
আমরা ছোট ছিলাম, কিন্তু বছর বছর আমরা বড় হতে থাকি,
আমাদের মা বড় ছিলো, কিন্তু বছর বছর মা ছোট হতে থাকে।
ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ার সময়ও আমি ভয় পেয়ে মাকে জড়িয়ে ধরতাম।
সপ্তম শ্রেনীতে ওঠার পর ভয় পেয়ে মা একদিন আমায় জড়িয়ে ধরে।
আমাদের মা দিন দিন ছোট হতে থাকে, আমাদের মা দিন দিন ভয় পেতে থাকে।
আমাদের মা আর বনফুলের পাপড়ি নয়, সারাদিন ঝরে ঝরে পড়েনা।
আমাদের মা আর ধানক্ষেত নয়, সোনা হয়ে বিছিয়ে থাকেনা।
আমাদের মা আর দুধভাত নয়, আমরা আর দুধভাত পছন্দ করিনা।
আমাদের মা আর ছোট্ট পুকুর নয়, পুকুরে সাঁতার কাটতে আমরা কবেই ভুলে গেছি।
কিন্তু আমাদের মা আজো অশ্রুবিন্দু, গ্রাম থেকে নগর পর্যন্ত
আমাদের মা আজো টলমল করে।

Thursday, 11 November 2010

Valo Theko ~ ভালো থেকো

Bangla Poem - Valo Theko



Bangla Poem - Valo Theko

NOYON AL MAMUNNOYON AL MAMUN·38 videos
26
2,021
Like 10     Dislike 1
Uploaded on Nov 11, 2010
Bengali poem by Humayun Azad..performed by Vidya Balan
  • Category

  • License

    Standard YouTube License 
    বিদ্যা বালান  

Sunday, 21 February 1988

এসো জীবনের গল্প শুনি, জীবনকে গড়ে তুলি

'এসো জীবনের গল্প শুনি, জীবনকে গড়ে তুলি'

মহাদেব সাহা, হুমায়ুন আজাদ, শফিউল ইসলাম, ..., মোহাম্মদ হাসিফুল আলম সমীর, মুস্তাফিজুর রহমান, .... ও পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রী 
c 1988 Feb 21 CTET, Dhaka
সৌজন্যেTexTek Solutions ::  Vision Creates Value

শফিউল ইসলাম
ইমেইল:   shafiul_i@yahoo.com :: ওয়েবঃ textek.weebly.com :: Canada :: www.linkedin.com/in/shafiul2009