Showing posts with label Mohammad Ali. Show all posts
Showing posts with label Mohammad Ali. Show all posts

Wednesday, 23 May 2012

একজন মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন


 
একজন মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন
মোহাম্মদ আলী
এলিফ্যান্ট রোডে কম্প্যাথের উল্টোদিকে দুই বন্ধুর পাশাপাশি দুটি অফিস। একটির নাম আলতামিরা হোমস, অন্যটির নাম পাওয়ার পয়েন্ট। পাওয়ার পয়েন্টের স্বত্বাধিকারী ছিলেন আগা আহমেদ তসলিম। দু\'জনই উদার প্রকৃতির মুক্তমনা মানুষ। দু\'জনের অফিসেই প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে ভরদুপুরে না হয়, বিকেলে বন্ধু-বান্ধবের আড্ডা লেগেই থাকত। আর সে কারণেই সেখানে হতো নানা তর্ক-বিতর্ক। কখনও হতো রাজনীতির কঠিন ও জটিল সব তত্ত্ব আলোচনা-বিতর্ক। আবার কখনও সংস্কৃতির আদি থেকে বর্তমানকালের অবস্থা পর্যন্ত আলোচনাও সেখানে স্থান পেত। এসব নিয়ে কখনও চলত বাজি ধরাধরি, আবার কখনও লাগত বাগ্যুদ্ধ।
এদের একজনের নাম আগা আহমেদ তসলিম, অন্যজনের নাম স্থপতি রেজাউল করিম।
এক যুগেরও আগের কথা। রেজাউল ভাইয়ের অফিসে তসলিম ভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। রেজাউল ভাই তার সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, \'ওর নাম মোহাম্মদ আলী। ও আরজ আলী মাতুব্বরের ওপর একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেছে। বইটির নাম \'আরজ আলী মাতুব্বর : চিন্তাজগৎ\'। কয়েকদিন পরে আবার দেখা হলে তিনি এবার বললেন, তুমি আমার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট। তোমাকে আমি তুমি বলব, যদি তোমার কোনো আপত্তি না থাকে। এভাবেই আমাদের ঘনিষ্ঠতা ক্রমশই বৃদ্ধি পেতে থাকে।
আগা আহমেদ তসলিম ভাইয়ের জন্ম কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের বিজয়করা গ্রামে। বাবা আগা এন আর চৌধুরী সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন। সেই সূত্রে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগও হয়েছিল সেই স্কুলজীবন থেকে। সে সুবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় তিনি গিয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি স্কুল ও কলেজে লেখাপড়া করেছেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে লাকসাম উপজেলার বিএলএফ, ইস্টার্ন সেক্টরের ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার মধ্যে কোনো ব্যাপারে কখনও অহঙ্কার দেখিনি, দেখিনি কোনো আত্মম্ভরিতা। বীরত্বের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন ও যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু তার যেন দেশের কাছে কিছুই চাওয়া-পাওয়ার ছিল না। শুধু তিনি যেন কিছু একটা করতে চাইতেন দেশের জন্য, সেই যন্ত্রণা তাকে সবসময় দগ্ধ করত।
\'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস\'-এর স্বীকৃতি পাওয়ার ব্যাপারে যারা উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেছিলেন তাদের মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন রফিকুল ইসলাম, আবদুস সালাম। তাদের সঙ্গে শিবনারায়ণ দাস ও আগা আহমেদ তসলিমসহ আরও বেশ কয়েকজন বিশেষভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি নানাভাবে এ কাজের জন্য তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দান করেছেন। এক সময় আজিজ সুপার মার্কেটে \'আহমদ ছফা ইনস্টিটিউট\' গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তাদের মধ্যে প্রধান ভূমিকায় ছিলেন শিবনারায়ণ দাস। সেখানেও তসলিম ভাই বিভিন্নভাবে ওই ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পেছনে পৃষ্ঠপোষকতা দান করেছেন। কিন্তু এমন একজন মানুষ হঠাৎ মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেন। অনেক টাকা-পয়সা ব্যয় হলো। বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন সবাই তার পাশে দাঁড়ালেন। কিন্তু মৃত্যুর নির্মম হাতছানি তাকে আমাদের মাঝ থেকে কেড়ে নিয়ে গেল। কিন্তু স্বপ্ন দেখা মুক্তিযোদ্ধার কি কখনও মৃত্যু হয়? বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যু হবে না।
আধুনিক চেতনাসম্পন্ন, বিজ্ঞানমনস্ক, উদারপন্থি এক সময়ের বামকর্মী তসলিম ভাইকে হয়তো আর আমাদের মাঝে পাব না। কিন্তু তার অজস্র গুণগ্রাহী বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন, যাদের সামর্থ্য আছে, যারা তার আজীবন-লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপায়িত করতে সক্ষম। তার লালিত স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে একটি \'সর্বাধুনিক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান\' উপহার দেওয়া। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি \'সাংস্কৃতিক সংগঠন\' গড়ে তোলা। তার সেই স্বপ্ন কি এই রাষ্ট্র বা তার কোনো সতীর্থ মুক্তিযোদ্ধা বন্ধু কাঁধে তুলে নেবেন? একজন মুক্তিযোদ্ধার অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করে আমরা কি তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি না?
nanditaali@gmail.com
 
 

মোহাম্মদ আলী, Mohammad Ali

Sunday, 4 March 2012

স্মরণ-সত্য প্রকাশের দায়ে ~ মোহাম্মদ আলী

স্মরণ-সত্য প্রকাশের দায়ে by মোহাম্মদ আলী

হুমায়ুন আজাদের অভাব আজ আমরা গভীরভাবে অনুভব করি। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন, আমাদের কাঁদিয়ে গেছেন। কিন্তু তার ভাষাতত্ত্ব, প্রবন্ধ সাহিত্য, উপন্যাস, কিশোর সাহিত্যের মধ্যে তিনি বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন। যখন তার কোনো রচনা পাঠ করি তাকে স্মরণ করি।

তিনি জীবন্ত হয়ে আমাদের ভেতরে ফিরে আসেন। তাকে ভীষণভাবে অনুভব করি

হুমায়ুন আজাদ জন্মেছিলেন মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরের রাঢ়ীখালে। পদ্মার পিঠ ছুঁয়ে রাঢ়ীখাল মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তার বুকের ওপর দিয়ে একটি পিচঢালা পথ চলে গেছে। বোধহয় সেই ব্যথায় তার বুক টনটন করে।
হুমায়ুন আজাদ যেন সেই ব্যথা একসময় অনুভব করেছিলেন। তিনি তার কৈশোর ও যৌবনের কিছু অংশজুড়ে অকৃত্রিম রাঢ়ীখালকে পেয়েছিলেন। তিনি আড়িয়ল বিলের চকচকে রূপালি সরপুঁটি মাছ দেখেছেন। কচুরি ফুলের ঘ্রাণ পেয়েছেন। মাঠে মাঠে সোনালি ধানের ঢেউখেলা বাতাস দেখেছেন। শীতকালে খেজুর রসে সিক্ত পিঠে খেয়েছেন প্রাণভরে।
প্রথম জীবনে লেখাপড়া করেছেন স্যার জগদীশচন্দ্র বোস ইনস্টিটিউশনে, এরপর ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাতত্ত্বের ওপর উচ্চতর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
চাকরি করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্বদেশ ছেড়ে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা তিনি একদম পছন্দ করতেন না। অভিবাসী বাঙালিদের জীবনযাপন সম্পর্কে তিনি বলেছেন, 'নতুন কৃতদাসের জীবন।'
তাকে খুব কাছ থেকে দেখা এবং তার সঙ্গে একান্ত ঘনিষ্ঠভাবে মেশার আমার সুযোগ হয়েছে। তিনি ঘড়ির কাঁটা ধরে চলতেন। কখনও কোথাও যাওয়ার কথা থাকলে নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে তিনি পেঁৗছতেন। কাউকে কথা দিলে সে কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন।
হুমায়ুন আজাদ কেমন মানুষ ছিলেন? আমার কাছে এ প্রশ্নের উত্তর হলো_ সাধারণত কোনো ঘটনা বা বিষয় যখন আমরা চিন্তা করি তখনই একজন মানুষকে বুঝতে পারি। হুমায়ুন আজাদ চিন্তা-দর্শনের দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ছিলেন। যেমন ধরুন, একুশে ফেব্রুয়ারি এলে বাংলা ভাষা সর্বস্তরে প্রচলন করার দাবি ওঠে। তিনি বলতেন, মতিঝিলে বাংলার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষা ব্যবহৃত হয়। সচিবালয়ে বাংলা ভাষা সম্পূর্ণ গুরুত্বহীন। উত্তরপাড়ায় বাংলায় ভাষা সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত। তাহলে বাংলা ভাষা কীভাবে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠালাভ করবে? যারা রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিচালনা করেন তারা যদি মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা, অবহেলা করেন, তাহলে এই ভাষা কখনও সর্বজনীন ভাষারূপে সমাজে প্রতিষ্ঠালাভ করতেন পারবে না।
আমাদের প্রচলিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা এসব নিয়ে তিনি ছিলেন সমালোচনামুখর। এ দেশের বড় বড় বিদ্যাপীঠকে তিনি খেদ করে 'ফোরকানিয়া মাদ্রাসা'র সঙ্গে তুলনা করেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলো যেভাবে মৌলবাদীদের আড্ডাখানায় পরিণত হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করে তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।
হুমায়ুন আজাদ একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন। শোষণহীন প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তার স্বপ্নের বাংলাদেশ কবে প্রতিষ্ঠিত হবে?
তিনি সে কারণে লেখার ভেতরে প্রচলিত ধ্যান-ধারণা, সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, ভণ্ডামি-কপটতা, স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে কলমযুদ্ধ চালিয়েছিলেন।
কিন্তু ঘাতক মৌলবাদীরা তার লেখার সমালোচনা না করে তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছিল।
সত্য প্রকাশের জন্য যেভাবে ব্রুনোকে জীবন দিতে হয়েছিল, হাইফেসিয়াকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, গ্যালিলিওকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল, তেমনি হুমায়ুন আজাদকে মৌলবাদের চাপাতির আঘাতে রক্তাক্ত হতে হয়েছে। যদিও তিনি প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। কিছুটা সুস্থ হওয়ার কিছুদিন পর একটি গবেষণাকাজে জার্মানিতে গিয়েছিলেন। সেখানে রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয়। ধারণা করা হয়, এর পেছনে মৌলবাদীদের হাত থাকতে পারে।
হুমায়ুন আজাদের অভাব আজ আমরা গভীরভাবে অনুভব করি। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন, আমাদের কাঁদিয়ে গেছেন। কিন্তু তার ভাষাতত্ত্ব, প্রবন্ধ সাহিত্য, উপন্যাস, কিশোর সাহিত্যের মধ্যে তিনি বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন। যখন তার কোনো রচনা পাঠ করি তাকে স্মরণ করি। তিনি জীবন্ত হয়ে আমাদের ভেতরে ফিরে আসেন। তাকে ভীষণভাবে অনুভব করি। কিন্তু জীবন এবং মৃত্যু অবধারিত। তাকে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
আজ সেই অমর একটি বাণীর কথা মনে পড়ে_ 'কোনো কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের চেয়েও ভারী_ কোনো কোনো মৃত্যু বেলে হাঁসের পালকের চেয়েও হালকা।' হুমায়ুন আজাদের মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী। তার মৃত্যু বাংলাদেশকে যেভাবে কাঁদিয়েছে; খুব কম মৃত্যুই এভাবে কোনো জাতিকে কাঁদাতে পারে।
কিন্তু হুমায়ুন আজাদের মৃত্যু নেই। তিনি মৃত্যুহীন। তিনি তাঁর সাহিত্য, কর্মময় জীবনের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবেন।
তার হত্যা প্রচেষ্টাকারীদের একদিন শাস্তি পেতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকার তার হত্যা প্রচেষ্টাকারীদের সত্যিকারের বিচার করবে_ এটাই জনগণের প্রত্যাশা। সাম্প্রদায়িকতা পরাস্ত হবে_ একদিন প্রগতিশীলরাই জয়ী হবে।
 

মোহাম্মদ আলী : সাংস্কৃতিক কর্মী
nanditaali@gmail.com 
 

Tuesday, 21 February 1989

নূর হোসেন ~ মোহাম্মদ আলী ♥♪♥


নূর হোসেন ~ মোহাম্মদ আলী ♥♪♥




নূর হোসেন 
Photo Courtesy of: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-11-10/news/304096


মোহাম্মদ আলী


নূর হোসেন ~ মোহাম্মদ আলী ♥♪♥

নূর হোসেন ~ মোহাম্মদ আলী ♥♪♥

ShafSymphonyShafSymphony·56 videos
8
No views
Like 0     Dislike 0
Published on Dec 11, 2012
নূর হোসেন ~ মোহাম্মদ আলী ♥♪♥
Noor Hossain ~ Mohammad Ali

শব্দের শব্দ শুনি
আবৃত্তি: শফিকুল ইসলাম বাহার
উপস্থাপনা: সুবর্ণা মুস্তাফা
প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ
নির্দেশনা ও পরিকল্পনা: শফিউল ইসলাম
প্রযোজনা : প্রীতিলতা প্রকাশনী
১৯৮৯ ফেব্রুয়ারী ২১
♥♪♥
Album: Shobder Shobdo Shuni
Recitation: Shafiqul Islam Bahar
Direction & Planning: Shafiul Islam
Preetilota Prokashonee
Dhaka
1989 Feb 21
::
Courtesy of:
Life2Love
TexTek Solutions
Vision Creates Value
♥♪♥

♫ ılılıll|̲̅̅●̲̅̅|̲̅̅=̲̅̅|̲̅̅●̲̅̅|llılılı ♫