নাজনীন সীমন
রাজপথ দখল
করিয়া রাখিয়াছেন বিরোধী দলীয় নেত্রীবৃন্দ; মিডিয়া তাহাদের পিছু ছাড়ে না অথবা
তাহারা মিডিয়ার। বিজ্ঞানীগণ বেশ অনেককাল আগে বলিয়াছেন দীর্ঘসময়/কাল উচ্চকণ্ঠে কথা
বলিলে ল্যারিংজাইটিস নামক এক ব্যাধির সম্ভাবনা রহিয়াছে। ইদানীং নানা কিছু দেখিয়া
মনে হইতেছে এই তত্ত্বের ভিতর কোনো এক গোলমাল রহিয়াছে। আমাদের রাজনীতিবিদগণ কণ্ঠের
সকল রগ জাগাইয়া থুথু ছিটাইয়া যেমন দিনের পর দিন বক্তব্য রাখিতেছেন উক্ত রোগের
এমনকি আদ্যাক্ষর দ্বারাও আক্রান্ত না হইয়া, তাহাতে ইহা ভাবা ব্যাতীত গত্যন্তর কই?
আরো সন্দেহ হইতেছে, মাইক্রোফোন নামক এই শব্দ বর্ধক জিনিসটির কোনো প্রয়োজন রহিয়াছে
কি না এই দেশে। যাই হউক, বর্তমানে প্রতিদিন বিরোধী দলীয় একাধিক নেতাকে টিভিতে দেখা
যায় এহেন চিৎকার করিয়া গণতন্ত্র গেল, সংবিধান রক্ষা হইতেছে না, প্রধানমন্ত্রীর
পদত্যাগ বাঞ্চনীয়, পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি, বাজারমূল্যের অগ্নিরূপ, দশ টাকা দরে চাল
কই, সর্বস্তরে নির্লজ্জ দলীয়করণ চলিতেছে, কুইক রেন্টাল আমাদিগকে আরো নিঃস্ব
করিতেছে, সরকার ভারতের পদলেহন করিতেছে, সমুদ্র বিজয়ে আসলে বাংলাদেশের ক্ষতি
হইয়াছে, হত্যা গুম ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করিতেছে বর্তমান সরকার ইত্যাদি ইত্যাদি
নানা বিষয়ে জানান দিতেছেন। রমজানুল মোবারকের দিনে উহাদের কেহ কেহ আবার টুপিও চড়াইয়াছেন
মস্তকের উপর।
দেশনেতারা
দেশের সমস্যা লইয়া কথা বলিবেন, ইহাই তো স্বাভাবিক। যদিও উহারা সংসদে যান না এবং
যাবতীয় সুযোগ সুবিধা লইতে পিছ পা হন না, তথাপি নিজস্ব কার্যালয় অথবা তৈরীকৃত মঞ্চে
ভাড়াকৃত জনবল লইয়া তাহাদের মনোভাব প্রকাশ করিতে দ্বিধা বোধ করিবেন না। কেনোই বা
করিবেন? উহারা ঘোষণা দিয়াছেন মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সংখ্যা লইয়া উহাদের দল
চলিতেছে যদিও দুষ্টজনেরা বলিয়া থাকে বন্দুকের নল হইতে নাকি এই দলের জন্ম। নিদেন
পক্ষে মাধ্যমিক শ্রেণীতে পড়ুয়া সকলেই জানে “জন্ম হোক যথা, তথা কর্ম হোক ভাল”
প্রবাদটি যেহেতু ভাব সম্প্রসারণের জন্য ইহা কণ্ঠস্হ করিতে হইত শিক্ষার্থীদিগকে;
অবশ্য প্রশ্ন উথ্থাপিত হইতে পারে একাধিক জন্মদিবস থাকা মাননীয় বিরোধী দলীয়
নেত্রীকে লইয়া—(দুষ্টুলোকের কাজ আর কি!)। তো এই সর্বাধিক মুক্তিযোদ্ধা থাকা দলটির
পাতি হইতে শুরু করিয়া পক্বকেশের অভিজ্ঞ কোনো নেতা ভুল করিয়াও যুদ্ধাপরাধী বিষয়ে
কথা বলেন না। জনগণ অবলোকন করিয়াছে উহাদের জনসভায় তাহাদের আধিপত্য, সম্মানিত
নেত্রীর সগর্ব উচ্চারণ ইহারা যুদ্ধাপরাধী নহে। ক্যান্টনমেন্টে আয়েশী ’৭১ কাটাইয়া
কেহ যদি এমত প্রকাশ করেন, তাহাকে দোষ দেয়া কি সাজে? জেনারেলের সাহচর্যে থাকা কেহ
যদি বীরাঙ্গনার যন্ত্রণা না বুঝিবার ফলে রাজাকারদের বিরুদ্ধে কথা না বলে তবে তাহাকে
কেউ সমালোচনা করা কি বুদ্ধিমানের কাজ?
তিনি
মুক্তিযুদ্ধ, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধ নাই-ই বুঝিতে পারেন এইসব হেতুতে, কিন্তু ঐসব
মুক্তিযোদ্ধাদের বুদ্ধি কি জমাট হইয়া গিয়াছে? উহাদের বিবেক কি নেত্রীর কোনো এক
স্যুটকেসের মধ্যে ঢুকিয়া অজান্তে পাচার হইয়া গিয়াছে? উহাদের দেশপ্রেম কি গোলামের
কাছে বন্ধক রাখিয়াছে? উহাদের যুদ্ধস্মৃতি কি সাঈদীর পড়া পানির ছোঁয়ায় মিলাইয়া
গিয়াছে শূন্যে? উহারা কি আর মানুষ নহে? উহারা কি আয়নার সামনে একবারও দাঁড়ায় না?
যুদ্ধাপরাধীদের
যে বা যাহারা সমর্থন করে, তাহাদের কি লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলায়
রাজনীতি করিবার সুযোগ থাকা উচিৎ? জনগণের বিবেক, বুদ্ধি, দেশপ্রেমে কি জং ধরিয়াছে?
যুদ্ধাপরাধীদের
বিচার সাধারণ জনগণের প্রাণের দাবী। ইহা না হইলে পতাকা অর্জনে বহু ত্যাগীদের চরম
অসম্মান হইবে। ইহা সম্পাদিত না হইলে এই মানচিত্র রক্ষা দুষ্কর হইয়া পড়িবে। জনগণের
জাগরণ ব্যাতীত দ্বিতীয় কোন পন্হা অবশিষ্ট নাই।
যুদ্ধাপরাধীদের
বিচার বাংলার মাটিতে হতেই হবে, হবেই হবে। জয় বাংলা।
No comments:
Post a Comment