Saturday, 16 July 2011

মানবতাবাদীতার ফেরিওয়ালা


মানবতাবাদীতার ফেরিওয়ালা

by Naznin Seamon (নাজনীন সীমন) on Friday, July 22, 2011 at 12:25am ·

পৃথিবীতে বরাবরই দুর্বল গোষ্ঠী শিকার হয় শক্তিশালীর, টিকে থাকে শক্তিমানের আধিপত্য। ডারউইন না বুঝেও বা সচেতন না হয়েও জীব জগতের প্রত্যেকে এই তত্ত্বকে নিয়ত প্রমাণ করে চলে। বোঝার মধ্যে আছে মানব প্রজাতি; কিন্তু বই পড়ে, তা নিয়ে ভেবে চিন্তে তো আর আমরা জীবন যাপন করিনা; তাই তাদের ক্ষেত্রেওে এই জ্ঞান থাকে পুঁথিগত বিদ্যার ভেতরে। বহু বহু আগে একসময় নারী পুরুষের তুলনায় দুর্বল এমন কোনো চিন্তা ছিলো না মানুষের। দলবদ্ধ ভাবে সবাই শিকার করেছে, খেয়েছে, ঘুরেছে, সঙ্গমের মাধ্যমে সন্তান উৎপাদন করেছে। এই দলবদ্ধতা যতোই সংঘবদ্ধ রূপ নিয়েছে, ততোই নিয়ম কানুন তৈরী হয়েছে। আবার শুরুতে ধর্মের কোনো নাম গন্ধ ছিলো না; মানুষ নিজস্ব প্রয়োজনে বা স্বার্থসিদ্ধির কারণে আরম্ভ করেছে ধর্মীয় আচার নিষেধ। সৃষ্টি হয়েছে অদৃশ্য এক শক্তির এবং তার প্রচারক কিছু মহান অবতারের। ভয় ভীতির মাধ্যমে তারা অপেক্ষাকৃত কম চিন্তাশীল বা সাধারণ মানুষের মধ্যে বসন্ত রোগের মতো ছড়িয়েছে অলৌকিককে শন্কা করার বীজ। এই কাজ করতে গিয়ে এইসব ধর্মীয় পুরুষেরা তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেছে দুই শ্রেণীর মানুষকে----মুক্তমনা, যুক্তিবাদী, সচেতন ও উৎসুক মানুষ এবং নারীকে। গ্যালিলিও, ব্রুনো থেকে শুরু করে আহমদ শরীফ, হুমায়ুন আজাদের মতো মানুষেরা প্রথমোক্ত শ্রেণীর অর্ন্তভূক্ত যাদের প্রশ্ন থাকার কারণে অপদস্হ তো বটেই একমাত্র সম্বল জীবনও হুমকির মধ্যে পড়েছে। আর নারীকে দেখানো হয়েছে দুর্বল গোষ্ঠী হিসেবে যার রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে পুরুষদের। এবং ধর্মের শৃঙ্খলের মাধ্যমে এদের যাবতীয় স্বাধীনতা হরণ করে মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে বশবর্তী গৃহপালিত জন্তু হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। যুগের বিবর্তনে মেরি ওলস্টোনক্র্যাফট, স্যিমোন দ্য বোভোয়ার, ব্রন্টে, মিল, এ্যাঙ্গেলস, ব্রাউনমিলার, মিলেট, ডিকিনসন, উলফ, এ্যান্জেলো, মরিসন, ওয়াকার, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, সফিয়া খাতুন, লীলা রায়, আমতুস সালাম, মনোরমা বসু, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায়, এম. এন রায়, সরলা দেবী, নজরুল, সুফিয়া কামাল, হেনা দাস, জাহানারা ইমাম, হুমায়ুন আজাদ সহ অসংখ্য মানুষ নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিজস্ব ভাবে এই শিকল থেকে বের হবার প্রেরণা যুগিয়েছেন, বুঝতে শিখিয়েছেন এটি অন্যায় ও অমানবিক, প্রতিবাদ করার চিন্তাসূত্র ধরিয়ে দিয়েছেন, নিজেরা প্রতিবাদ করেছেন।
    সময় বদলেছে অনেক। এখন আর আগের মতো প্রতিদিন যৌতুকের জন্য নির্যাতনের খবর আসে না, এসিড দগ্ধের সংখ্যা বেড়ে চলে না, ধর্ষণের সংখ্যাও আনুপাতিক হারে কমেছে অনেক। আইনের প্রয়োগই এর অন্যতম কারণ। আবার অন্যদিক চিন্তা করলে দেখা যায়, নতুন ধরনের নির্যাতন পদ্ধতি বেরিয়েছে। কিছু নাম হোলো মানসিক চাপ সৃষ্টি করা, ভাষাগত অত্যাচার, ইভটিজিং, ব্ল্যাকমেইলিং, ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও চিত্র প্রকাশ, ফেসবুক সন্ত্রাস প্রভৃতি ----এর বেশ কয়েকটি আবার যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। শারীরিক সন্ত্রাসের তীব্রতা কমেছে শ্রেণী বিশেষে, কিন্তু শাসন, ধরে রাখার প্রবণতা, শৃঙ্খলিত করার চেষ্টা কমেনি, বরং নারীদের প্রগতির সাথে সাথে নতুন এক উপসর্গের উদ্ভব ঘটেছে---ভয় ও হিংসার সংমিশ্রণে একটা কিছু যার নাম এখনো নির্দিষ্ট করে প্রকাশিত হয়নি, তবে প্রকাশ অত্যন্ত ভয়ন্কর। সফল, শিক্ষিত নারীদের নিয়ে তাদের পথ চলার পুরুষ সঙ্গীরা এক রকম বিপাকে পড়েছেন---নারীর এইসব গুণাবলী তাদের যেমন পছন্দ সমাজে খাপ খাইয়ে চলার জন্য, ঠিক তেমনি এগুলো তাদের এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখে কখন না জানি নারী সঙ্গী/স্ত্রী ছেড়ে চলে যায়। তারও চেয়ে বড় ভয় ও লজ্জা যদি নারীটি পুরুষটির চেয়ে কোনো অংশে বেশী যোগ্যতাসম্পন্ন হয়, অনবরত এক ধরনের হীনমন্যতা দহন করতে থাকে এইসব মানুষদের এবং এই অর্ন্তদ্বন্দ্বের বর্হিপ্রকাশ ভীষণ আকার ধারণ করে ক্ষেত্র বিশেষে।
    এরকমই এক ঘটনার মুখোমুখি আমরা হলাম সাম্প্রতিক সময়ে: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক মারাত্নক নির্যাতনের শিকার হলেন স্বামী কর্তৃক। কারণ তাঁর সাফল্য নাকি অপর পক্ষকে ঈর্ষান্বিত করে তুলেছিলো। ঈর্ষান্বিত, চিন্তিত, উদ্বিগ্ন, ভীত হওয়াটাইতো স্বাভাবিক, কারণ তিনি ‘নারী’র পক্ষে যা ‘শোভন’ নয়, তাই-ই করছিলেন। নারী সম্পর্কে আমাদের সনাতন বোধ ও বিশ্বাস অনেকটা অপরিবর্তনীয়ই থেকে যায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন, “প্রকৃতিই রমণীকে বিশেষ কার্য্যভার ও তদনুরূপ প্রবৃত্তি দিয়া গৃহবাসিনী করিয়াছেন—পুরুষের সার্ব্বভৌমিক স্বার্থপরতা ও উৎপীড়ন নহে—অতএব বাহিরের কর্ম দিলে তিনি সুখীও হইবেন না, সফলও হইবেন না” (উদ্ধৃত, নারী, ১১৯), এবং নারীমুক্তিবাদী কৃষ্ঞভাবিনী দাসের সাথে স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে নারীমুক্তি বিষয়ে বিতর্কে এভাবেই জোরালো মন্তব্য প্রকাশ করেন তিনি। যখনই একজন নারী সফল বা সঙ্গী পুরুষটি থেকে অধিকমাত্রায় সফল হন, এই সময়েও এমনকি একজন উচ্চশিক্ষিত পুরুষও শন্কা বোধ করেন, হীনমন্যতায় ভোগেন বিবিধ কারণে যার কিছু সামাজিক চাপে, কিছু ব্যক্তিগত সঙ্কীর্ণতা থেকে উদগত। রবীন্দ্রনাথকে এই প্রসঙ্গে আবারও উল্লেখ করতেই হয়। ‘শেষের কবিতায়’ তিনি নিবারণ চক্রবর্তীর মুখে তাঁর নিজস্ব ভাবনার প্রতিধ্বনি তোলেন এই বলে যে, “পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলে নারী আধিপত্য শুরু করবে। দুর্বলের আধিপত্য ভয়ন্কর”। আমাদের সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বোধকরি এখনো এই তত্ত্বেই বিশ্বাস রাখেন যার প্রতিচ্ছবি নিয়ত আমরা চারপাশে দেখতে পাই।
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা প্রসঙ্গে স্বামী ভদ্রলোকের দাবী রুমানা মন্জুরকে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছিলো, তিনি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন, এই কারণেই আবারো কানাডা যেতে চাইছিলেন। বলা বাহুল্য সবই সম্ভব। এবং মনে রাখা আবশ্যক যে নারীকে ঘায়েল করার জন্য সবচে’ মোক্ষম অস্ত্র হোলো তার চরিত্র নিয়ে কথা বলা। চরিত্রের সংজ্ঞায় অবশ্য তেমন কিছু থাকে না, এমনকি সত্যবাদীতাও স্হান পায়না এই তালিকাতে। বরং এখানে একক আধিপত্য করে একজন পুরুষের সঙ্গে নারীটির শারীরিক বা মানসিক সম্পর্ক----বিয়ের আগে বা পরে নির্বিশেষে। এমনকি নারীটি যদি বলাৎকারের শিকারও হন, তাতেও সাধারণত নারীকেই দোষারোপ করা হয় তার চরিত্রের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে। কারণ নষ্ট মেয়ে না হলে কেনোই বা একজন তার দিকে নজর দিতে যাবে। পুরুষ যাতে তার পথ ভুল না করে, তার যেনো কোনো রকম বদ স্পৃহা জেগে না ওঠে, কামনার আগুনে যাতে অঙ্গার না হয় সেজন্য ধর্মীয় গ্রন্হাবলীতে, বিশেষত কোরানে নারীদের আপাদমস্তক ঢেকে রাখার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যাতে তার সৌন্দর্য আস্বাদনের সাধ কাউকে দহন করে বিপথে চালিত না করে। তো আমরাও নারী পুরুষ নির্বিশেষে এই বাতলে দেয়া পথে চলি অধিকাংশ মানুষ। এমনকি দেখা যায় কোনো মেয়েকে উত্যক্ত করছে একদল বা একটি বখাটে ছেলে; দোষ কার? অবশ্যই স্ত্রী লিঙ্গধারী মানুষটির। ঠিক তেমনিভাবে এই ঘটনাতেও দাঁড়িয়ে গেলো পক্ষ বিপক্ষ যদিও পক্ষের মানুষের সংখ্যাই বেশী। এর অনেকগুলো সঙ্গত কারণের ভিতর একটি হোলো রুমানা মন্জুরের আর্থ সামাজিক অবস্হান, তাঁর পরিবারের সামর্থ্য মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করার। এই যুক্তি অহেতুক নয় এই কারণে যে প্রতিদিন আমাদের সমাজে একাধিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে থাকে যার বেশীর ভাগ আমাদের গোচরীভূতই হয়না। যেগুলো হয়, তার মধ্যেও আবার অধিকাংশ ঘটনা এতোটা প্রচার পায়না বা সাড়া জাগায় না; বেশীর ভাগ ক্ষেত্র্রে অপরাধী ধরা তো পড়েই না, অত্যাচারিতকে অপরাধী মন নিয়ে ঘুরতে হয়।
    ঠিক যে সময়ে রুমানার এই ঘটনা আমাদের মর্মন্তুদ ভাবে আলোড়িত করেছে, সেই সময়েই ঘটে যাওয়া আরো হয়তো বেশ অনেকগুলো ঘটনা আমাদের কান পর্যন্ত এসে পৌঁছেনি। কিন্তু যেটির কথা আমরা জেনেছি সেটি হোলো প্রতিবেশী কর্তৃক নোয়াখালির এক গৃহবধূর ধর্ষিত হবার ঘটনা। শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, ধর্ষক পরে আবার এসিড ঢেলে পৃরোটা শরীর পুড়িয়ে দিয়েছে এই নারীটির। টিভির পর্দায় আমরা অনেকেই হয়তো দেখে থাকবো সমস্ত শরীরে সাদা ব্যান্ডেজ বাঁধা জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এই মানুষটির গোঙানি। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমার দেখা বা জানা মতে একজন মানুষও এই ব্যাপারে কোনো রা করেননি। তা না করতেই পারেন। প্রত্যেকেরই স্বাধীন আচরণের শতভাগ অধিকার রয়েছে। তাছাড়া এইসব অমানবিক ঘটনা যখন আমাদের নিত্যসঙ্গী, তখন কতোই বা অনুভূতি প্রকাশ করা যায়! প্রশ্ন জাগে তখনই যখন প্রথমোক্ত ঘটনায় প্রতিবাদকারীদের কেউ কেউ মুখে ফেনা তুলে ফেলেন মানবতা লঙ্ঘিত হয়েছে, আর এক চুলও এসব অত্যাচার সহ্য করবেন না বলে। মানবতার কি শ্রেণী বিভেদ থাকে না থাকা উচিৎ?
    কাউকে কাউকে প্রতিশ্রুত হতে শুনেছি মিলে গেলে নিজের চোখ পর্যন্ত দান করে দেবার। কয়েকজন পুরুষকে শুনলাম রুমানার স্বামীর অণ্ডকোষ কেটে রাস্তায় ঝুলিয়ে দেবার তোড়জোড় করতে, কেউ কেউ আবার কাককে দিয়ে তা খাওয়ানোর সদিচ্ছাও ব্যক্ত করেছেন। কয়েকজন নারীবাদী নারীকে দেখলাম রুমানার স্বামীর চোখও একইভাবে উপড়ে ফেলার দৃঢ়তা ব্যক্ত করতে। কয়েকজন তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহে যথেষ্ট মৌখিক তৎপরতা দেখালেন। একজন তাঁর কোনো এক সাংবাদিক বন্ধুকে মিনতি করে বললেন তিনি যেনো এটি নিয়ে লেখেন জোরালো ভাবে এবং শুধু তাই নয়, বরং জোর দাবী জানালেন এর উপর বিশেষ সংখ্যা বের করতে যাতে উনি অবশ্যই লেখা দেবেন (নির্লজ্জ দীনতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ), কেউ কেউ প্রশ্ন তুললেন জোর গলায় দেশের সরকারী প্রধান এবং বিরোধী দলীয় প্রধান নারী হওয়া সত্ত্বেও এমন বর্বরোচিত ঘটনা কেমন করে ঘটে যেনো এই প্রথম আমরা নারী নেতৃত্ব দেখছি আর এই প্রথম এ ধরনের নারকীয় ঘটনা ঘটলো। সবচে’ অবাক হলাম যখন আমাদের বর্তমান সরকারী দলে থাকা নারী মন্ত্রী, সংসদ সদস্য রাস্তায় নেমে এলেন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে। এর বিচার যে হবেই তা তারা নিশ্চিত করতে চাইলেন রাস্তার খররৌদ্রে দাঁড়িয়েই। বিরোধী দলকে অন্ততঃ এই একটি ব্যাপারে আমি ধন্যবাদ দেয়া বাঞ্চনীয় মনে করি যে তারাও রাস্তায় নেমে হঠাৎ করে মানব দরদী হবার প্রয়াস নেননি। অবশ্য আমি জানিনা রুমানা মন্জুর লাল সাদা না নীল দল সমর্থিত এবং এটিও কোনো ভূমিকা রেখে থাকতে পারে কিনা। আমাদের আনন্দে থৈ থৈ করার যথেষ্ট কারণ আছে এই জন্য যে মাননীয় সংসদ সদস্যদের একজন ফুটনোটের মতো একটু করে বললেন, যে কোনো নারী নির্যাতনের শিকার হলে সরকার এই ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্হা গ্রহণ করবে। শ্রেণী বৈষম্যের কি নির্মম উদাহরণ!
    আমরা সবাই কম বেশী অবগত যে মিডিয়ার কাজই হোল বেছে নেয়া কোন ঘটনাটি প্রকাশ করলে পাঠক/দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়বে তাদের উপর। আবার আমাদের উপমহাদেশে এবং বিশেষত আমাদের মতো দারিদ্রসংকুল দেশে আইন রক্ষাকারী বাহিনীও পক্ষপাতদুষ্ট। এটি মোটামুটি প্রকাশিত গোপন কথা। কিন্তু এখন আর প্রচার মাধ্যমগুলো বা পুলিশ বাহিনী কেবল নয়, বরং সাধারণ মানুষেরাও ঘটনা বেছে তাদের প্রতিক্রিয়া দেখান; তাই বোধহয় একই ধরনের ঘটনায় কেউ পান বহুল প্রচার ও যথাযোগ্য বিচার, আর অন্য কেউ হয়তো কারো দৃষ্টিই আকর্ষণ করতে পারেন না। সাম্প্রতিক আরো একটি ঘটনা এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে। ভিকারুন্নেসা নুন স্কুলের এক ছাত্রীর শিক্ষক কর্তৃক নির্যাতিত হওয়ার পাশবিক ঘটনায় আমরা কম বেশী সবাই আন্দোলিত হয়েছি, সবাই এর বিচার চাইছি, শিক্ষক পরিমলকে হাতের কাছে না পেয়ে মুখে তাকে ছিন্নভিন্ন করছি। সবই সঙ্গত, মানুষের মতোই আচরণ করছি আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু খটকা লাগে তখন যখন গ্রামের কোনো এক কিশোরী কন্যাকে বা প্রাথমিক শ্রেণীর এক শিশু ছাত্রীকে উপর্যুপরি ধর্ষণের পর পাটক্ষেতে মৃত বা অর্ধমৃত অবস্হায় ফেলে রাখার ঘটনা আমাদের ততোটা শিহরিত করে না, যেমন আমরা মানবিক হয়ে উঠি না নিম্নশ্রেণীর কোনো নারীর অত্যাচারিত হওয়ার ঘটনা শুনে যেনো এমনই তো হবার কথা অথবা এসব তো হর হামেশাই ঘটছে, কতো আর নজর দেয়া যায় বাপু!
    সবচে’ মজার অথচ দুঃখজনক ব্যাপার হোল মাসখানেক না যেতেই রুমানা মন্জুরকে নিয়ে অতি উৎসাহীদের সব মাতামাতি থেমে গিয়েছে। সবাই পরবর্তী এ জাতীয় ঘটনার অপেক্ষা করছেন বোধহয় এবং মধ্যবর্তীকালীন সময়ে ‘সাধারণ’ কিছু নিয়ে ব্যস্ত আছেন। যিনি চক্ষুদান করতে চেয়েছেন, কানাডার হাসপাতালে চোখ প্রতি দুটো করে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা রুমানাকে আশার বাণী না শোনাতে পারার পরও তিনি এখন নীরব ভূমিকা পালন করছেন। কারণ অতি আবেগ খুব সাময়িক। পুত্রশোকও নাকি মাসের ব্যবধানে খানিকটা হাল্কা হয়, আর এখানেতো অপরিচিত একজন মানুষ, আর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ভিন্ন, স্বার্থের মাছিতে ভরপুর।
     শুধু তাই-ই নয়, আমরা যে কোনো বিষয়ের হয় এপার, নয় ওপার দেখি মধ্যবর্তী অংশটুকু পুরোপুরি অস্বীকার করে। স্রোত যেদিকে যায়, নাক চোখ, বুদ্ধি সব বন্ধ করে আমরা সে দিকেই ভেড়ার পালের মতো হাঁটি। উপরোক্ত ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে এই সত্য আবারো জ্বলজ্বল করে উঠলো। কোনো এক অনুষ্ঠানে একজন বসে বসে পত্র্রিকা মুখস্ত করছিলেন আর সবাইকে ডেকে ডেকে দেখাচ্ছিলেন রুমানার ছবিটি। পাশে বসা একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন ঘটনার বিবরণ। বর্ণনাপ্রসঙ্গে যেই রুমানার স্বামীকৃত মন্তব্যের কথা বললাম, আমাকে তো দু’ চারজন পারলে লবণ তেল মরিচ ছাড়াই চিবিয়ে ফেলেন! আমি যতোই বলি এটি আমার ভাবনা নয়, কেবল ঘটনার বিবরণে প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করছি, ততোই নখে দাঁতে ছিন্নভিন্ন করতে চাইলেন যেনো আমি নিজের দু’আঙ্গুল দিয়ে উপড়ে তুলেছি রুমানার নয়, ঐ ব্যক্তির চোখ দুটো। খুব শানানো গলায় বারংবার একজন বললেন মেয়েদের কিছু হলে মেয়েরাই সে ঘটনাকে সব সময় অন্য খাতে প্রবাহিত করতে চায়, ভূক্তভোগী মেয়েটিকে চরিত্র্রের দোষ দেয়, না থাকলে খুঁজতে সচেষ্ট হয়। তাঁর পুরো ঘটনা শোনার কোনো উৎসাহ বা আগ্রহ  দৃশ্যমান হয়নি। কথা শুনে কেবলি মনে হচ্ছিলো পুরুষমাত্রই নারীকে অত্যাচার করার জন্য মুখিয়ে আছে এবং নারীরা কস্মিনকালেও কিছু করেন না। এই অন্ধত্ব আমাদের অশিক্ষারই পরিচায়ক বৈকি। আমাদের নিজেদের বিবেক বুদ্ধি ও বিবেচনা দিয়ে আমরা ঠিক ততোটা কাজ করিনা যতোটা না অন্যের দেখানো পথে চলি। চিলের কান নেয়ার গল্প বারংবার প্রতিফলিত হয় আমাদের কাজকর্মে। আবার একজনকে দেখা গেলো সবাই যেহেতু রুমানার হয়ে কথা বলছে তাই ইচ্ছাকৃত ভাবেই ঘোষণা দিয়ে হাসানের পক্ষ নিতে কারণ তিনি সব সময় স্রোতের বিপক্ষে থাকেন। কি বিবেচনা বোধ! কি ব্যতিক্রমী ভাবনা! অথচ এদের কাউকেই একথা বলতে শোনা গেলো না যে ঘটনা যাই হোক না কেনো একজন মানুষের সাথে কোনো অজুহাতেই এই ধরনের বর্বর আচরণ করা যায় না, মানুষ হবার অন্যতম শর্ত বিবেকবোধ এবং এই ধরনের আচরণ এই শর্তকে পুরোপুরি ক্ষুণ্ন করে। কেউ এ কথা ভাবলেন না, চোখ উপড়ে নেয়ার শাস্তি চোখ উপড়ে নেয়া বা অণ্ডকোষ কাটা বা অন্য কোনো শারীরিক নির্যাতন হতে পারে না। দুটো আচরণই অমানবিক, দুটোই আমাদের অন্ধকারমুখীতা প্রমাণ করে।
     মানুষ হয়ে আমরা যেমন পারিনা একজন নারীর গায়ে এসিড ছুঁড়ে মারতে, ঠিক তেমনি পারিনা একজন পুরুষের কণ্ঠনালী বা অণ্ডকোষ ভাড়াটে গুণ্ডা দিয়ে কেটে নিতে। অথচ এর সবই ঘটছে আমাদের চারপাশেই কেননা আমরা মনুষত্বের পথ পরিক্রমা থেকে বিচ্যুত হয়েছি। অবশ্য এখানেও প্রশ্ন আছে, আমরা কি আদৌ কোনোদিন মনুষত্বকে লালন করেছি সেভাবে? এ ধরনের পাশবিকতা কি আগে ঘটেনি? জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নির্বিশেষে আমরা এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে দেখেছি মানুষকে সব সময়ই। অন্ধকার যুগে যেমন, তার পরেও তেমনি এবং এখন এই একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও আমরা একই ধরনের অসভ্য আচরণ করছি। শোষক ও শোষিতের সম্পর্ক চিরদিনের। নীল চাষ করতে যখন বাধ্য করা হয়েছিলো ভারতীয় কৃষকদের তাদের আঙ্গুল কেটে, হত্যা করে, নীলকুঠি যখন অত্যাচারের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিলো, সম্রাট শাহজাহান যখন তাঁর প্রিয়তমার প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন তাজমহল নির্মাণে নিয়োজিত সব শ্রমিকদের (সহস্রাধিক) মাটির নীচে আটকে রেখে মেরেছিলেন যাতে করে এর দ্বিতীয়টি এরা বানাতে না পারেন, জাপানে যখন পারমাণবিক বোমা ফেলেছিলো মার্কিন বাহিনী, জার্মানীতে যখন কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে হিটলার ও তার বাহিনী মানুষ মারার নেশায় মেতে উঠেছিলো, একাত্তরে যখন নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধ নির্বিশেষে সবাইকে পাকবাহিনী তাদের বাংলাদেশের দোসরদের সাহায্যে মেরে কেটে পুড়িয়ে শেষ করে দিয়েছিলো এবং এমন হাজার হাজার ঘটনার উল্লেখ করা যাবে, তখনও বিবেকের চোখে ঠুলি পরিয়ে এইসব তথাকথিত মানুষেরা হয়ে উঠেছিলো অত্যাচারের প্রতীক, মানবতা হয়েছিলো ভূলুণ্ঠিত, মানবিক বোধ হয়েছিলো পদদলিত। এবং দুঃখের কথা এই যে এ জাতীয় ঘটনার শেষ হবে না, চলতেই থাকবে মানুষ এবং তার সভ্যতা যতোদিন থাকবে। তাইতো একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও গুয়ান্টামো বে-র খবর শুনে আমরা শিহরিত হই আপাদমস্তক, এরশাদ শিকদারের বরফকল আমাদের আমূল কাঁপায়, একুশে আগষ্ট, পিলখানা হত্যাকাণ্ড বোধের ভেতর দ্রুত কড়া নাড়ে, নাড়ায় আমাদের, এবং সুখের কথা, এর মাঝেও সত্যিকার মানবতাবাদী আত্নারা তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন একাগ্রচিত্তে।
    মানবতাবাদী যদি আমরা হই তো শ্রেণী-ধর্ম-জাতি-লিঙ্গ নির্বিশেষে হবো। শুধুমাত্র হঠাৎ হঠাৎ যদি আমাদের এই ভাব উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে, তাহলে ধরে নেয়া আবশ্যক যে ভেতরে খানিকটা কি যেনো গড়বড় আছে। ধর্ম নিয়ে ব্যবসা প্রাচীন এক পদ্ধতি মানুষের মগজ ধোলাই করবার জন্য। আর মানবতা নিয়ে ব্যবসা বোধ করি নব্য উদ্ভাবন যার আড়ালে মানুষ সস্তা জনপ্রিয়তা কুড়োতে চায়, নিজেকে জাহির করতে চায়। আমরা কি সব সময়েই এমনি করে সস্তা প্রচার পাবার জন্য ছোঁক ছোঁক করতে থাকবো? আমাদের প্রকৃত বিবেক কি কোনোদিনও জাগ্রত হবেনা। গ্রীষ্মকালীন ছুটি বা সবজির মতো, বা ঋতুকালীন ব্যবসায়ীদের মতো আমরাও কি বিশেষ সময়কালীন মানবতাবাদী হবো, নাকি আমাদের সত্তাকে গড়ে তুলবো প্রকৃত সচেতন মানুষের মতো করে? আম জনতাগণ রাজনীতিবিদদের মতো এই সুযোগ সন্ধানী মনোভাব পরিত্যাগ না করতে পারলে এই নষ্টস্রোত কোথায় আমাদের নিয়ে যাবে সেটি ভাবলে গা শিউরে ওঠে। সুস্হ ও গভীর মূল্যবোধ ছাড়া অসভ্যতার চোরাবালিতে ডুবে যাওয়ার প্রগাঢ় সম্ভাবনা থাকে। ব্যক্তি নয়, জাতিগত ভাবে এর থেকে উত্তরণের যথার্থ সিঁড়ি আমাদের খুঁজে নিতেই হবে। মানবতাবাদীতা নিয়ে ফেরিওয়ালার মতো চিৎকার বন্ধ করার জন্য এগিয়ে আসা সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব আমাদের সবার।

  · · · Share

    • নীল কন্ঠ
      খুব মনযোগ দিয়ে পড়লাম আপনার এই দরকারি লেখাটা। জাগ্রত হোক মানুষের বিবেক। জাগ্রত হোক মানবতা। মানুষ যখন জ্ঞান বিজ্ঞানে এতোটাই ঝলমল করছে, ভিন্ন গ্রহে বসবাসের চিন্তা করছে সেই যুগে আমাদের দেশে এতো অন্ধকার দেখে চোখ জ্বালা করে ওঠে। এতোটা বর্বর, এতোট
      া নিষ্ঠুর এখনো কি করে আমরা? গ্রামের মুর্খ বা অশিক্ষিত মানুষের দ্বারা এধরনের কাজ ঘটলে চোখ বন্ধ করে বলা হয় ওরা অশিক্ষিত-গন্ডমূর্খ -চাষাভুষা বর্বর অসভ্য মানুষ। এমনটি ঘটা খুবই স্বাভাবিক কিন্তু যখন নির্মম পৈশাচিকতা দেখি একি দেশের উপ্রতলার মানুষ অর্থাৎ যাদের শিক্ষা-দীক্ষা অর্থ-বৈভবের কোনো কমতি নেই--তখন কি বলা যায়? আসলে এটি একটি মানবিক সমস্যা। আমাদের অন্তরে মানবিকতা বোধের ঘটতি তৈরী হচ্ছে প্রতিদিন এবং এর কারন বহুবিধ। মূলতঃ সমাজ ব্যাবস্থা, এর শাসন প্রনালী, জীবনযাত্রা যাপনের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে এইসব অমানিবক হয়ে ওঠার বীজ। জীবন যুদ্ধের পরতে পরতে সাধারণ মানুষকে এতোটাই হয়রাণির শিকার হতে হয় যে সে আর তখন কাউকে নিয়ে ভাবতে পারেনা--নিজেকে বাঁচানোর যুদ্ধে একক বোধ এবং বেঁচে থাকাই তার কাছে প্রধান হয়ে পরে এবং মানুষ যখনই বিচ্ছিন্ন হয় তখনই সে হয় দারুন স্বার্থপর এবং মানবিকতাবোধহীন। কেবল নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এবং ভালমন্দটাই তার কাছে প্রধান করনীয় কাজ। এই বোধ ছড়িয়ে পরে দ্রুতই। এখন আর আমরা কতটা সমাজবদ্ধ জীব? বস্তুতঃ সবাই এখন এক বাক্যে মেনে নিচ্ছেন প্রতিটা মানুষ একা এবং এই একাকীত্ব বোধ মানুষকে সরিয়ে দিচ্ছে মানবিকতাবোধ থেকে। প্রকৃত অর্থে মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। মানুষের পক্ষে একা জীবন নির্বাহ করা সম্ভব নয়। একে অপরের উপর নির্ভরশীল--এই বোধ যত বাড়বে--ততোই মানুষ একে অপরের মর্ম যাতনা উপলব্ধি করবে। সামাজিক বন্ধন গুলো দৃঢ় না হলে মানবিকতাবোধের মাপাঙ্ক ক্রমশ আরো নিম্নগামী হবার আশঙ্কা বহুগুন।

    • Hasan Mohisopan চমৎকার লেখাটি!!!

    • Naznin Seamon নীল কন্ঠ ও Hasan Mohisopan: অনেক ধন্যবাদ সময় নিয়ে পড়ার এবং অনুভূতি জানানোর জন্য। মানবতা তো লঙ্ঘিত হচ্ছেই, কিন্তু এর প্রতিবাদ করাকেও কিছু শ্রেণীর মানুষ এখন পুঁজি করছে বিশেষ উদ্দেশ্যে। কি ভয়ন্কর সমাজে বাস করছি ভাবলে আমি শিউরে উঠি। আপনাদের প্রেরণার জন্য আবারো কৃতজ্ঞতা।

    • Naznin Seamon Rifat Istiak
      DrAkm Akhtarul Kabir
      Rajat Das Gupta
      অসংখ্য ধন্যবাদ পড়ার জন্য। ভালো থাকবেন সবাই।

    • Hasan Mohisopan
      প্রয়োজন শিক্ষার, এ ঘণ ঘোর আঁধার থেকে বেরিয়ে আসতে কিন্তু কথা হল কোন শিক্ষা? আমাদের প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতি যাকে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই বলি তা মানুষকে শিক্ষিতের সনদ দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু পরিচিত করছে কূপমণ্ডুক হিসাবে। প্রয়োজন মুক্ত মনের চর্চা,
      স্বাধীন চিন্তার সন্নিবেশ, প্রসারিত অন্তরদৃষ্টি। এগুলি না হলে শিক্ষার পূর্ণতা মিলবে না কিছুতেই। সামাজিক দুষ্টু চক্র কূটিল ষড়যন্ত্রের যে জাল বুনে রেখেছে চার দিকে তা হল এমন সকল অচলায়তন ভেদি প্রত্যয়ের অন্যতম অন্তরায়। যে জাতি যত শিঘ্র স্বাধীন চিন্তার বিকাশ ঘটাতে পেরেছে সে জাতি পৃথিবীতে তত উন্নত আজ................আমরা আর কবে পারব...........আর কত যুগ পার হলে?

    • Omer Selim Sher Excellent write up.....only proper education... will bring forth the changes that you advocated. Very strong message to the society and the male counter parts of yours...to make the mankind realize the values instilled in each human.

    • Naznin Seamon I really appreciate your thoughtful comment and time to read my writing. Hope to get your constructive criticism in future too which will help me improve my writing for sure. @ Omer Selim Sher

    • Naznin Seamon Hasan Mohisopan@ You are a great inspiration to me as always. Thank you for your continuous support. Things are changing, but this new phase scares me. Now everything is a show of show off, well almost everything. We need some real people.

    • Naznin Seamon ‎Chondon Anwar, Ahsanul Kabir Ripon@ Thank you very much for inveting your valuable time to read this. Please take care.

    • Shafiul Islam Thanks for your farsighted inspirational thoughts. Nothing glorious than uplifting humanity as we weave our global social fabric together. Nazrul, Sukanto, Preetilata, Bidyasagor, ..., fought for our freedom. Our journey of uplifting humanity continues as we drive our dreams to build a better tomorrow.


মানবতাবাদীতার ফেরিওয়ালা


নাজনীন সীমন 
নিউ ইয়র্ক 
::
c২০১১ জুলাই ১৬
::

Banga Amar Janani Amar.....Tarun Bandopadhyay

Banga Amar Janani Amar.....Tarun Bandopadhyay



দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, Dwijendralal Ray, Songs, দ্বিজেন্দ্রগীতি, Video,

Uploaded by on Jul 16, 2011
Lyrics-Dwijendralal Roy,Film-Subhaschandra,Singer-Tarun Bandopadhyay.

Category:

License:

Standard YouTube License

Sunday, 3 July 2011

বাঁশের আঁশের গবেষণায় নতুন সাফল্য

বাঁশের আঁশের গবেষণায় নতুন সাফল্য

Sunday, 03 July 2011

বহুমুখী জ্যোতির্ময় - তারান্নুম আফরীন! বর্তমানে পি.এইচ.ডি. করছেন অস্ট্রেলিয়ার Deakin বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারান্নুমের গবেষণার বিষয় বাঁশের আঁশের প্রস্তুতির পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি উদ্ভাবন ও এর বহুমুখী ব্যবহার।  
ইতিমধ্যে তারান্নুমের গবেষণা ও সাক্ষাৎকার আলোড়ন সৃস্টি করেছে ও  প্রকাশ পেয়েছে বেশ কয়েকটি প্রচার মাধ্যমে। তারান্নুম আফরীনের এই সাক্ষাৎকারটি  প্রকাশিত হলো  TexTek Solutions ও বিজ্ঞানী.org এর সৌজন্যে।

তারান্নুমের জন্ম বাংলাদেশে। আমরা দুজনেই আলোর পথযাত্রী। অজানাকে জানার সাধ ও সাধনার সূত্র ধরেই অন্তর্জালে আমাদের যোগাযোগ। 

 তারান্নুম আফরীন :: Tarannum Afrin

Cover Photo Compose and Design by Zayed Farid, Udbhid Chottor FB Forum, 20181024

শুনুন তাহলে আমাদের আলাপচারিতার অংশ বিশেষ: 
 
শফিউল ইসলাম: শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভূবন,  বিজ্ঞানী.org -এ স্বাগতম। অস্ট্রেলিয়ায় সময় কেমন কাটছে?
তারান্নুম আফরীন: ধন্যবাদ। অস্ট্রেলিয়ায় ভীষণ ব্যস্ত সময় কাটছে গবেষণা নিয়ে। আমি অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া স্টেট-এর Deakin বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ারুন পন্ডস ক্যাম্পাস-এ পি.এইচ.ডি. করছি অস্ট্রেলিয়া সরকারের বিশেষ বৃত্তি 'Australian Postgraduate Award (APA)' স্কীম-এ।

শ. ই.:
তোমার জন্ম বাংলাদেশে। তোমার শৈশবের কথা শুনতে চাই?
তা. আ.: পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দেশটায় আমার  জন্ম। আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশী। 
 
আমি আমার বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। পুরো প্রজন্মের অগ্রজ। বাবা ব্যাংকার। মা শিক্ষকতা করতেন। যদিও আমাদের দুবোনের পিছনে সময় দিতে গিয়ে বেশিদিন শিক্ষকতা করা হয়নি তাঁর।
 
আমি খুব অসুস্থ হয়ে জন্মেছিলাম। তাই আমার শৈশবের বেশিরভাগ সময় কেটেছে আমার নানা বাড়িতে। বড় নাতনী, তার উপর অসুস্থ বলে নানাভাই আর আপুজি (নানী) চোখের মনি করে রেখেছিলেন। আমার সবকিছুর হাতে খড়ি আমার নানাভাইয়ের কাছে। তিনি একজন নৌ-কর্মকর্তা ছিলেন। প্রকৃতিকে চিনিয়েছিলেন তিনি। রাতের বেলা তারা দেখিয়ে বলতেন পদার্থবিদ্যার নানা কথা। গণিতেও হাতে খড়ি তাঁর কাছেই। আর ছিল আপুজির স্নেহ আর মমতা। আমার রোগ-বালাই লেগেই থাকতো। রাতের পর রাত আমাকে কোলে নিয়ে হেটে হেটে গল্প বলতেন নানাভাই আর আপুজি যখন অসুস্থ হয়ে যেতাম খুব বেশি। বলতেই পারেন আমি একজন মিরাকল বেবী। অনেক ধরনের জটিলতা নিয়ে জন্মাবার পরও আজ অবধি টিকে আছি পরম করুণাময়ের অসীম কৃপায়!
 
শ. ই. : ভালো লাগলো তোমার কৃতজ্ঞতাবোধ - অনেকের আশীর্বাদ ও প্রেরণা পেয়ে তুমি আজ এপর্যন্ত। নানাবাড়ি কোথায়?
তা. আ. : বরিশালে। তবে, আমার শৈশবের অধিকাংশ সময় কেটেছে ঢাকার মগবাজারে।

শ. ই.: বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার তোমার। অনেক পেশার মাঝে টেক্সটাইল প্রযুক্তি পেশাকে কেন বেছে নিলে?
তা. আ.: আমার ডিজাইনের প্রতি বেশ ঝোক ছিল। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় এলো, একদিন 'প্রথম আলো'-তেই টেক্সটাইল নিয়ে একটা প্রতিবেদন বের হলো। আমার বাবা আমাকে ডেকে বললেন, তুমি টেক্সটাইল-এ পড়। একদিন অনেক বড় ডিজাইনার হতে পারবে। 'CK' এর মতো নিজের ব্র্যান্ড হবে 'TA' ...। এই কথাটি মনে বেশ দাগ কেটেছিল। সেইখান থেকেই টেক্সটাইল পড়া আর পেশা হিসাবে বেছে নেয়া।

শ. ই.: বাংলাদেশের প্রায় ৮০% রপ্তানী আয় আসে টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্প থেকে। এক্ষেত্রে আমরা কি কি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি?
তা. আ.: আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ডিজাইন। আমরা সবাই পিছনের দিকের লিঙ্কেজের কথা বলি; কিন্তু সামনের দিকের লিঙ্কেজের কথা ভুলে যাই। শুধু ক্রেতাদের অর্ডারগুলো তৈরি করা ছাড়াও, আমরা আমাদের নিজেদের ডিজাইন দিয়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করতে পারি। আমি খেয়াল করে দেখেছি ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে আমাদের যে পণ্যগুলো  (products) আসে তা একদম সাধারণ পণ্য (basic product)। আমি বিশ্বাস করি আমাদের চমকপ্রদ পণ্য (fashionable product) তৈরির দক্ষতা আছে - যেখানে লাভ অনেক বেশি। আমরা শুধু বড় ভলুউমের -এর কাজ করি; কিন্তু এটা মনে রাখা উচিত চমকপ্রদ (fashionable) অর্ডারগুলো ছোট ভলুউমের হলেও আমাদের মেধাকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করবে।
 
আমাদের আরেকটা বড় সমস্যা আমাদের সরাসরি যোগাযোগ নেই ফ্যাশন retailers -দের সাথে। আমাদেরকে অনেক ক্ষেত্রেই buying / liaison অফিসের উপর নির্ভর করতে হয়। এক্ষেত্রে লভ্যাংশ অনেক কমে যায়। এছাড়া আমাদের দেশে গবেষণা ও উন্নয়নের প্রকৃত কাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি।

শ. ই.: এসব সমস্যাকে কীভাবে সম্ভাবনায় রূপ দিতে পারি?
তা. আ.: আমাদের মধ্যে সব সময় একটা পশ্চাদমুখী দৃষ্টিভঙ্গী কাজ করে। এটাকে বদলাতে হবে। নোতুন নোতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। আর এটা মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে স্বল্প শ্রম দিয়ে সফল হওয়া দুস্কর; কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।

শ. ই.: বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরের উন্নতির জন্য কোন পরামর্শ... ...?
তা. আ.: আমার মনে হয় টেক্সটাইল খাতে গবেষণার সুযোগ বাংলাদেশে অনেক কম। এ বিষয়ে আমাদের বিশেষভাবে মনোযোগী হয়ে ওঠা আশু প্রয়োজন।

শ. ই.: তুমি বহুমুখী জ্যোতির্ময়! তোমার মা বলতেন রংধনুর ৭-রঙের মতো তোমার ৭-টি গুণ থাকা চাই। একাধারে তুমি তর্কবাগীশ, সঙ্গীত শিল্পী, সংবাদ পাঠক, শিক্ষক, প্রযুক্তিবিদ ও গবেষক! পেশা হিসেবে তোমার  কোনটা প্রিয়? কেন?
তা. আ.: পেশা হিসেবে প্রিয় গবেষণা, যেখানে নোতুনকে উন্মোচিত করার আনন্দ আছে। বিতর্ক-কে খুব বেশি ভালবাসি। আমার মনে হয় আমি যদি তার্কিক না হতাম তাহলে আমার গবেষণাকে অস্ট্রেলিয়ান প্রচার মাধ্যমে এভাবে তুলে ধরতে পারতাম না টেলিভিশন ও বেতার সাক্ষাৎকারগুলোতে। বিতর্কের কাছে আমি ভীষনভাবে ঋণী - যেটা আমাকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। ১৬তম জাতীয় টেলিভিশন বিতর্কে আমি প্রথম হয়েছিলাম টেক্সটাইল কলেজে পড়ার সময়।

শ. ই.: তুমি কোন ধরনের গান করো? সঙ্গীত সাধনায় তোমাকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন কে?
তা. আ.: সেমি-ক্লাসিক্যাল ও মেলো রক দুটোই আমার অসম্ভব প্রিয়। আমার মা-বাবা দুজনেই গান করতেন। তাঁদের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে বিশেষ দখল ছিল। তাঁদের হাত ধরেই কথা বলতেই যখন শুরু করেছি ঠিক তখন থেকেই সঙ্গীতের সাথে সখ্যতা। আমার বোন ডা. তানজিনা আফরীন আমার গানের idol ...।

শ. ই.: এবার তোমার গবেষণা জগত সম্পর্কে জানতে চাই? নিয়ে চলো আমাদের তোমার গবেষণা জগতের গভীরে। মূল লক্ষ্য কী? প্রধান প্রতিবন্ধকতা কী? সাফল্য কতদূর?
তা. আ.: আমি বাঁশের ফাইবার নিয়ে কাজ করছি। একটি পরিবেশ বান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি আমি উদ্ভাবন করেছি। এছাড়াও আমি বাঁশ থেকে একটি কেমিক্যাল compound সনাক্ত করেছি যেটা সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে রক্ষা করবে মানুষকে। বিশেষভাবে এটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য ভীষণ প্রয়োজন - যেখানে স্কিন ক্যান্সারের মাত্রা অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি। এছাড়াও আমার বাঁশের ফাইবার ন্যাচারাল, যা তুলার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে; কিন্তু তুলার চাইতে অনেক বেশি কিছু দিতে পারবে - যেমন UV থেকে প্রতিরক্ষা, ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ গুণাগুণ (antimicrobial property), তাৎক্ষণিক আদ্রতা শোষণ (instant moisture absorption) বা পরিশোষণ গুণাগুণ (wicking property)।
 
বাঁশ একটা দারুণ গাছ। সেচ/জীবানুনাশক (pesticides) কোনটাই দরকার হয় না তুলা চাষের মতো। তাছাড়াও বাঁশ গাছের দ্রুত বৃদ্ধি তো আছেই।
 
বাঁশ ভীষণ রকমের শক্ত বস্তু। তাই একেই ফাইবার বানাতে বর্তমানে উৎপাদনকারীরা ভিসকস প্রস্তুতির পদ্ধতি ব্যবহার করছে - যেখানে অনেক ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। আমরা আরো খেয়াল করেছি ভিসকস প্রস্তুতি পদ্ধতিতে বাঁশের ফাইবার তৈরি করলে এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ গুণাগুণগুলো থাকে না। বাঁশ শুধুমাত্র কাঠের বিকল্প হিসেবেই ব্যবহার হচ্ছিলো। আর একারণেই আমেরিকা ও কানাডা-তে বাঁশ labelling বন্ধ করে দেয়া হয়। আর সেখানেই আমার গল্প শুরু। একটি বিকল্প পদ্ধতি বের করার প্রচেষ্টা। আমার পদ্ধতি যেমন পরিবেশ বান্ধব, তেমন সস্তা। তুলার দাম বেড়ে যাওয়াতে যারা চিন্তিত ছিলেন তাদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে আমার প্রাকৃতিক বাঁশ ফাইবার।
 
আমার গবেষণা সম্পর্কে আরো অনেক তথ্য পাওয়া যাবে Deakin বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট-এ ও নীচের লিঙ্কগুলোতে। আমার কাছে সাফল্য বলতে যা বোঝায় তা হচ্ছে মানুষের ভালবাসা। তা পাওয়া হয়েছে। এছাড়া যদি জাগতিক সাফল্যের কথা বলি তাহলে বলতে হয় অস্ট্রেলিয়া কাপিয়ে দিয়েছে আমার গবেষণা। অনেকগুলো দৈনিক আমাকে নিয়ে সংবাদ করেছে। বেতার ও টেলিভিশন সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তার সাথে একাডেমিক প্রকাশনা তো আছেই।

শ. ই.: তোমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা? পরবর্তী প্রজন্মদের জন্য কোনো পরামর্শ? আমরা কীভাবে আরো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী হতে পারি?
তা. আ.: আমার কাছে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি যে কাজ-ই করি তার আগে বেশ কিছু হোমওয়ার্ক করি। আমি সবুজ সুন্দর একটা পৃথিবী দেখতে চাই।  আর তাকে ঘিরেই আমার যত ভাবনা।

কাউকে পরামর্শ দেবার মতো যোগ্যতা বোধ হয় এখনো অর্জন করিনি।  তবুও আমার পরিবেশ-প্রতিবেশের কাছে প্রার্থনা তারা যেন একটু সচেতন হয়ে ওঠেন।  এই পৃথিবীটাকে ভালো রাখতে হলে ঠিক যতটুকু সচেতন হবার দরকার ঠিক ততটুকু। প্রতিটি মানুষের ভিতর আলো রয়েছে। তাকে জ্বালাতে হবে। আর সেক্ষেত্রেই চর্চার কোনো বিকল্প নেই।

শ. ই.: তারান্নুম আফরীন, অনেক ধন্যবাদ আমাদেরকে তোমার মূল্যবান সময় দেবার জন্য। আশা করি তোমার আলোকিত অন্তর্দৃষ্টি, সৃজনশীল গবেষণা আমাদের অনুপ্রেরণা যোগাবে ও আলোর সন্ধান দেবে। তোমার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার, গবেষণা ও অগ্রযাত্রার সাফল্য কামনা করছি। অনাবিল শুভেচ্ছা।
তা. আ.:  আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। আপনার এত ব্যস্ততার মাঝে আমার মতো একজন ক্ষুদ্র ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেবার জন্য। আমি অত্যন্ত আনন্দিত টেক্সটাইল জগতের কিংবদন্তীতুল্য নক্ষত্র ড. শফিউল ইসলাম আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এটা আমার কাজের বিশাল স্বীকৃতি। বিজ্ঞানী.org -এর পাঠকদের প্রতি রইলো শুভকামনা। আপনারা আপনাদের প্রার্থনায় আমাকে স্মরণ করবেন যাতে পৃথিবীর জন্য কিছু করে যেতে পারি।

আমাদের প্রাপ্তি:
ভালো লেগেছে তারান্নুম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে যাঁরা তার চলার পথে অনেক উৎসাহ ও প্রেরণা যুগিয়েছেন। তারান্নুম তার একাগ্রতা ও মৌলিক গবেষণা দিয়ে আমাদের বিশ্ব জ্ঞান-ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করে চলেছে!  তারান্নুমের তারুণ্য, সাধনা ও সৃজনশীল গবেষণা তারার মতো ঝিলমিল করে জ্বলবে। আশার আলো ছড়াবে। অনেককে অন্ধ বিশ্বাসের বৃত্ত ভেঙ্গে স্বপ্ন দেখার সাহস যোগাবে। তাই স্বপ্ন দেখি সৃস্টি সুখের উল্লাসে আমাদের স্বপ্ন-চূড়ায় বিশ্বের বুকে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ এবং সুন্দর আগামী গড়ার প্রত্যয়ে তারান্নুম ও তারান্নুমের মতো আরো অনেকের অন্তহীন অগ্রযাত্রা।
 
শেষ কথা:
আমরা কৃতজ্ঞ তারান্নুম তার অসুস্থতা ও ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের সময় দিয়েছে। খুব ভালো লেগেছে তারান্নুমের শেষ কথাটি - 'পৃথিবীর জন্য যেন কিছু করে যেতে পারি'। আজকের পৃথিবীতে আমরা শুধু চাই, চাই আর চাই। ক'জনে কিছু দিতে চায়? বন্ধুরা, 'শুধু চাই, চাই আর চাই'-এর জগতে এখন অনেক ভীড় - এখানে অনেক প্রতিযোগিতা - অনেক ভীড়ের মাঝে হারিয়ে যেও না। তাই চলে এসো 'কিছু দিতে চাই' জগতে - এখানে প্রতিযোগিতা অনেক  কম - এখানে সুখ, শান্তি, সাফল্য ও আনন্দ অনেক বেশি। আর তাই ডাক দিয়ে যাই।
 
তারান্নুম আফরীনের গবেষণা ও গানের জগতের কয়েকটা লিঙ্ক:

তারান্নুম আফরীনের শিক্ষাজীবন:
  •  পি.এইচ.ডি. Deakin বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া :: Australian Postgraduate Award (APA) :: ২০০৯-২০১২
  •  এম.এস.সি. ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য :: কমনওয়েলথ বৃত্তি :: ২০০৫-২০০৬
  •  বি.এস.সি.  কলেজ অফ টেক্সটাইল টেকনোলজী, বাংলাদেশ :: প্রথম শ্রেনীতে প্রথম :: ১৯৯৯-২০০৩

ছবি: সৌজন্যে ফেস বুক :: তারান্নুম আফরীন :: ২০১১ জুলাই ০৩।
 
Stay tuned! More to come. অপেক্ষায় থাকুন....

বাঁশের আঁশের গবেষণায় নতুন সাফল্য

Courtesy of:
biggani.org>Textile> https://biggani.org/?p=969
http://visioncreatesvalue.blogspot.ca/search/label/Tarannum%20Afrin

সৌজন্যে: TexTek Solutions ::  Vision Creates Value
 
শফিউল ইসলাম
ইমেইল:   shafiul_i@yahoo.com :: ওয়েবঃ textek.weebly.com :: Canada :: www.linkedin.com/in/shafiul2009  
মন্তব্যগুলো (12)Add Comment
tarannum afrin , the pride of Bangladesh
লিখেছেন dr. tanzina afreen, July 07, 2011
I cannot hold my tears of joy at your achievement my dear sister.......may ALLAH give u all the strength 2 reach the summit of success........
বাঁশের আঁশের গবেষণায় নতুন সাফল্য
লিখেছেন Shafiul Islam, July 07, 2011
Dr. Tanzina Afreen,

Greetings. Many thanks for your beautiful comment and insightful thought.

Shuvarthee,
Shafiul
শফিউল ইসলাম এবং তারান্নুম--দুজনই আমাদের গর্ব! তাঁদেরকে অভিনন্দন!
লিখেছেন মূনীব রেজওয়ান, July 09, 2011
আপনার নেয়া তারান্নুম আফরীনের সাক্ষাৎকারটি পড়লাম। অসম্ভব ছুঁয়ে গেল মন। আমি আপনার এবং তারান্নুম আফরীন এর সাক্ষাতৎকারটি আমার ফেসবুক নোটস এ দিতে পারি কি? কেন যেন মনে হয় এধরণের সাক্ষাৎকার আরো অনেককেই উজ্জিবীত করবে। আপুনারা দুজন আমাদের দেশের গর্ব। সামনের দিনগুলোতে আপনাদের গবেষণা শুধু আমাদের দেশ নয় গোটা বিশ্বে মানুষের জীবন যাপন কে সহজ করবে, সমৃদ্ধ করবে। দুজনকেই অশেষ ধন্যবাদ। তারান্নুমের জীবনের সফলতা কামনা করছি।
বাঁশের আঁশের গবেষণায় নতুন সাফল্য
লিখেছেন Shafiul Islam, July 09, 2011
শুভেচ্ছা মূনীব রেজওয়ান!
আমাদের বিপুল জনশক্তি। আমরা কর্মমুখী ও সৃজনশীল হলে আমরাই অনেক এগিয়ে যাব। আমদের দেশ অনেক এগিয়ে যাবে।
ধন্যবাদ ডঃ শফিউল ইসলাম
লিখেছেন মূনীব রেজওয়ান, July 09, 2011
একদম সঠিক বলেছেন। আমরা যদি আমাদের মেধা এবং সম্পদের সঠিক ব্যাবহারটা করতে পারি--জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। ও হ্যাঁ--আমি এই লিঙ্কটি আমার ফেসবুক নোটস এ শেয়ার করেছি। উদ্দেশ্য --এই সফলতার আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পরুক পাশাপাশি আরও অনেকেই অনুপ্রাণিত হোক! লিঙ্কটা এখানে দিলাম
http://www.facebook.com/note.php?note_id=189745684412303 ধন্যবাদ আপনাকে এতো ব্যাস্ততার মাঝেও এতো সব কিছু নিরলস ভাবে করে যাচ্ছেন আপনি।
বাঁশের আঁশের গবেষণায় নতুন সাফল্য
লিখেছেন Shafiul Islam, July 09, 2011
একদম সঠিক। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে - মূনীব! আমরা কৃতজ্ঞ।
বাঁশের আঁশের গবেষণায় নতুন সাফল
লিখেছেন নুরুন্নাহারশিরীন , July 10, 2011
অভিনন্দন। বিষয়টি আদতেই প্রাণিত হওয়ার .. আমি বিষম প্রাণিত হয়েছি। ধন্যবাদ @Shafiul islam.
সপ্রীতিঃ নুরুন্নাহারশিরীন
বাঁশের আঁশের গবেষণায় নতুন সাফল্য
লিখেছেন Shafiul Islam, July 10, 2011
অনুপম শুভেচ্ছা নুরুন্নাহারশিরীন!
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। তারান্নুমের সাফল্য প্রেরণার ঢেউ তুলছে দেখে ভালো লাগছে। 'আমি কেবলি স্বপনো করেছি বপনো....'

প্রেরণা পেলাম। শব্দের শব্দ শুনি। স্বপ্ন দেখি ....।
Tarannum Afrin.... Our Pride!!!
লিখেছেন Salma Yasmin, July 15, 2011
Thanks so much... Mr. Shafiul Islam... for your report and the interview. Bangladesh need to know the research outcome of the Bangladeshis abroad. We do appreciate it so much! I do like your comment on "shesh kotha"... Very impressive.

Congratulations Tarannum... We all are so proud of you and your work... Your sincerety and commitment will show the ultimate success to you, Bangladesh and the world! Well Done!!!
বাঁশের আঁশের গবেষণায় নতুন সাফল্য
লিখেছেন Shafiul Islam, July 19, 2011
Salma Yasmin,

We appreciate your insightful and inspirational thoughts. We all can make a difference to build a better tomorrow as we weave our future together!
হারা ধনের হারা শশি অন্ধকারেই ফিরে আসে।
লিখেছেন তমাল, September 04, 2011
তারান্নুম আফরীনের প্রতি আকুলতা,,,
তার আবিষ্কারের অন্যতম সূফলভোগি যেন হয় তার প্রিয়তম স্বদেশ...
বাঁশের আঁশের গবেষণায় নতুন সাফল্য
লিখেছেন Shafiul Islam, February 20, 2012
Greetings Tomal,
Thanks for thoughts. Bangladesh has profound heritage of quality natural fibers like jute, cotton, bamboo, banana, pineapple, coconut, .... I believe Tarannum's passion for innovation can create a competitive edge!

Sunday, 29 May 2011

যদি আর বাঁশী না বাজে - Jadi Aar Bashi Na Baze




কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের শেষ অভিভাষণ
আবৃত্তি: কাজী সব্যসাচী  

Uploaded by  on May 29, 2011
"Jadi Aar Bashi Na Baze", a Najrul poem, recited by Kazi Sabyasachi, and Bansuri accompaniment by Pandit Hariprasad Chaurasia (Now).

A trip To Toronto for the love of Tagore



Mizan Rahman

   By 8:30 Aklima and I were on highway 416 en route to Toronto, where we hoped to arrive at Serene and Sagar’s Birchmont Rd. Apt. in Scarborough by 1 pm. Aklima’s journey actually started much earlier, at around 4:00 am, when she left her home in Montreal, to pick me up at Ottawa. She didn’t have to take this long detour---she could have gone straight to Toronto and I could have gone on my own. But she doesn’t trust me with the wheel anymore for long distance driving---she wouldn’t feel safe to let me drive alone. She is not my daughter, but anyone who doesn’t know me but knows her believes that I am her father. There is nothing I can do about it----she seems to have taken over my life. I suppose I didn’t even try to do anything about it---- she is such a strong-willed girl that no protestation from me would have any effect on her. She is the kind of person that I always hoped every Bengali woman would become and be able to take charge of their own lives as well as the lives of their loved ones.
   But what was it that drove Aklima to wake up at 3 in the morning, drive on dark lonely roads of Quebec and Ontario to reach Ottawa in time for breakfast with her adopted father, then dash out again for another long haul on crowded highways? Was it for a view from the top of the CN tower, a Blue Jays baseball game, a ride on the sightseeing bus on the Dundas Square, or the violin Concerto  of Itzak Perlman at the Roy Thomson Hall? Or just to have a good time with old friends? Friends were part of the reason, but the most abiding reason was the love of Tagore----the great Rabindranath Tagore, the legendary Bengali poet who is now known the world over and revered by poetry-lovers in every language. We, Aklima and I are, quite unabashedly, Tagore-fanatics. We believe, at least I do, that Tagore was much more than a poet and a lyricist for the middle class Bengali nation---he was like a god who created a cultural air-space in which we sustain our life by breathing in it. In fact he gave us an identity---a right to call ourselves “Bangalis”. Personally I make a distinction between one who is a Bengali by birth and one who has had to work hard to become a “Bangali” by having traveled the path traced by this great man. In my books not every Bengali-speaking person is a true “Bangali”. This is based on my conviction that an educated and enlightened Bangali realizes in course of time that there is no feeling that he/she feels that Tagore didn’t feel and describe in the most eloquent manner in one of his songs or poems or stories; no emotion he/she ever felt in the core of his/her heart that didn’t become immortal and luminescent in his writings. He is there in every subliminal layer of our existence----we find him in our hopes and despairs, in our joys and distresses, in our loves and rejections. He brings light in our darkness just as he brings us the soothing coolness of shades when we are dazzled by the harshness of urban light.
    Aklima and I were there because we had tickets for an evening program at Toronto’s Berkeley Street Theatre  featuring the famous Tagore play “The Post Office”(May 7-June 4,2011), produced by Toronto’s Pleiades Theatre Company. Obviously it was with great excitement and anticipation that the two of us proceeded toward 26 Berkeley Street, after a hearty meal at Serene’s place. Thanks to Sagar’s help with a google-generated road-map we had  no trouble finding the place that would otherwise be quite a challenge to find in a maze of unfamiliar  Toronto streets. The building wasn’t exactly a showcase of modern architectural creativity, rather an unpretentious old brick-walled house that looked anything but one that could host top quality professional plays. Nonetheless, the place was full, the crowd was eager and enthusiastic, people of all ages and all nationalities, who obviously  heard or knew who Tagore was, perhaps even loved him as a man who could sing into their hearts and speak the words in a way he could but they could not, yet always wanted to. A sublime Tagorian serenity seemed to have pervaded the air. Meanwhile four other local friends joined the two of us, and thanks again to Sagar’s journalistic connection the six of us found ourselves right in the front row, in full view of the actors and other stage-hands. We couldn’t possibly ask for more comfortable seats.
  Now a few words about the play itself. First, I have a confession to make----I am completely ignorant in the art of theatre or stage drama. It would be presumptuous on my part to try to write a critique of the play that I, along with Aklima and others, had watched on the night of May 21, and enjoyed every moment of it. All that I can, and will venture to offer, if anyone would care to read, is my personal impression of the play and what I thought of the overall production.
    As explained in the synopsis of the brochure the play is like a sonata: it’s divided in three ‘movements’ or parts, of which the first is just to set the tone and style, as well as to introduce the background of the main story. Madhab Dutta and his wife, a childless couple, adopts a boy called Amal from a nearby village who, however, is afflicted by an apparently incurable illness, for which the rural “healer”, an inflexible and severe pundit, dogmatically adherent to the scriptures, prescribes lifelong captivity in the confines of Dutta home. All that is granted this hapless boy is a view from the living room window. This brings us to the second part of the story where the window becomes the only access for the boy to the outside world with all its magical sounds and scenes and happenings. He hears the local huckster hawking his buckets of curd : ”Doi, Doi” (curd in colloquial Bengali), which to Amal sounds like the song of freedom. So he invites the hawker in the house and begs him to teach him how to say:”Doi, Doi”. He sees a beggar in the street going door to door begging for alms, and he thinks what fun it must be to be able to visit every house in every village, so he wants to be a beggar when he gets well and goes out! But the most abiding scene for him is the sight of a building under construction which was to be the King’s Post Office. Oh, what a wonderful idea----the mighty King’s very own Post Office. Would he be allowed to deliver the royal mail when he is cured?  Would anyone care to send him a letter? Better still, would the King himself write a letter to him? He wonders. Which brings the audience to the third part of the story where the kind-hearted King does better than send a letter----he sends his Royal Healer to heal the boy.
    It’s all a beautiful dream, of course, a typical Tagorian portrait of a captive child’s helpless cry for freedom. Freedom from his own rotten body, freedom from the torment of the “healing” he has been subjected to. The story, to me, is not just the story of an imprisoned boy fantasizing the magic of life outside his window, but symbolizes the voice of all captive souls all over the world. It’s a heart-rending call for rescue from the tyranny of heartless captivity---tyranny of all kinds.
  To me it is a mesmerizingly beautiful story, magnified by flawless acting by its cast and, in particular, by the lead character Amal played superbly by Mina James. She was just unbelievable.
  Was it an absolutely perfect evening? Yes, it was. Almost. To me there was just one tiny blemish that, in my opinion, could and should have been avoided---the concluding song:”Bhalo achhi, bhalo theko”. On its own it’s a beautiful song, but alongside Tagore’s  “Post Office” it sounded sadly out of place. At least to my untrained ears. With so many songs of Tagore available on human mind’s eternal   longing for freedom, as well the joy and ecstasy of freedom itself, was its inclusion really necessary?
   In the end, however, my hats off to everyone involved in the production of this fabulous piece of art that has given us so much joy that Aklima and I had no problem going back home singing Tagore songs all the way.

Ottawa,
May 29, ‘11
  
( Editor’s note: This article was originally written for the English-speaking readers of web magazine Notundesh.com. We decoded to reprint it here because of its special significance in this year of Rabindranath Tagore’s 150th birthday. We hope that it will be of great interest to not only our largely English-speaking second generation, but also to many interested adults. The author of this article is the eminent mathematician and  Professor Emeritus Dr.Mizan Rahman, who happens to be one of our regular Bengali writers as well.)


মীজান রহমান, Mizan Rahman,

Monday, 23 May 2011

Bangladesh, Bangladesh, Bangladesh - Joan Baez


Song Of Bangladesh with lyrics



Song Of Bangladesh with lyrics

MorticiasoulMorticiasoul·34 videos
39
5,888
Like 23     Dislike 1
Uploaded on Apr 6, 2010
This is a video for my bangladeshi goddaughter, her family and the Bangladeshi in general.
Song Of Bangladesh is sung by Joan Baez.

SONG OF BANGLADESH by Joan Baez

 SONG OF BANGLADESH by Joan Baez

rashelzamanrashelzaman·22 videos
37
2,171
Like 18     Dislike 0
Uploaded on May 23, 2011
SONG OF BANGLADESH (Words and Music by Joan Baez). Come From the Shadows was a 1972 album by Joan Baez.
"Bangladesh When the sun sinks in the west. Die a million people of the Bangladesh ."
  • Category

  • License

    Standard YouTube License